শাহরুখের মেট গালা লুক নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন সুফি?
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৬ এএম | ১৫ মে, ২০২৬
মেট গালার লাল গালিচায় শাহরুখ খান-এর প্রথম উপস্থিতি ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল তুঙ্গে। ভারতীয় দর্শকদের কাছে মুহূর্তটি ছিল বিশেষ আবেগের। কালো পোশাকে, চোখে কালো চশমা, গলায় ভারী রুপোর গয়না আর বুকে ঝোলানো বড় ‘কে’ অক্ষরের লকেট নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বলিউডের ‘কিং খান’। তাঁর সেই সাজ তৈরি করেছিলেন খ্যাতনামা ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়।
তবে সেই সাজ নিয়েই এবার প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করলেন ফ্যাশন বিশ্লেষক ও কনটেন্ট নির্মাতা সুফি মোতিওয়ালা। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক আলোচনায় তিনি সরাসরি বলেন, শাহরুখের পুরো সাজ তাঁর কাছে ‘ট্যাকি’ মনে হয়েছে। বিশেষ করে গলায় থাকা ‘কে’ অক্ষরের লকেট নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, সেটি নাকি সাধারণ বাজারের কোনও দোকানের গয়নার মতো দেখাচ্ছিল।
মেট গালা ২০২৫-এর থিম ছিল ‘ব্ল্যাক ড্যান্ডিজ়ম’- যা মূলত আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষদের ফ্যাশনের মাধ্যমে এক প্রতীকী বিদ্রোহ, পরিচয় ও আত্মপ্রকাশের ঐতিহাসিক ভাষা।

সুফি মোতিওয়ালা-এর মতে, মেট গালার মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে শুধুমাত্র তারকাখ্যাতি যথেষ্ট নয়, সেখানে থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সৃজনশীল উপস্থাপনাও জরুরি। এ বছরের মেট গালার থিম ছিল কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের ফ্যাশনের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহ, আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অবস্থান তুলে ধরা। কিন্তু শাহরুখের সাজে সেই ভাবনার কোনও ছাপ তিনি খুঁজে পাননি বলেই দাবি করেন।
শুধু সমালোচনাতেই থামেননি সুফি। তিনি তুলনা টেনে আনেন করণ জোহর-এর সাজের সঙ্গেও। তাঁর কথায়, করণের পোশাকে থিমের স্পষ্ট উপস্থিতি ছিল। ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রা-র তৈরি সেই পোশাক নাকি শিল্প, ইতিহাস ও ফ্যাশনের এক মিশ্র রূপ হয়ে উঠেছিল। রাজা রবি বর্মার শিল্পকর্ম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হওয়া সেই পোশাকে কয়েক হাজার ঘণ্টার শ্রম ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একদল অনুরাগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শাহরুখ খান নিজেই একটি আইকন, তাঁর উপস্থিতিই যথেষ্ট। অন্যদিকে আরেক অংশের মত, আন্তর্জাতিক মঞ্চে গেলে থিমের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল।
ফ্যাশন দুনিয়ায় স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত সুফি মোতিওয়ালা আগেও বহু তারকার সাজপোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তবে এবার তাঁর মন্তব্য ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি হয়েছে শাহরুখকে কেন্দ্র করেই।
এসএ/এসএন