© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচারের চুক্তি, ভারতের কী হবে?

শেয়ার করুন:
চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচারের চুক্তি, ভারতের কী হবে?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৩ পিএম | ১৫ মে, ২০২৬
চীনের সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিভাবক সংস্থা মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাসেরও কম সময়ের মাঝে আজ (শুক্রবার) এই চুক্তি হয় বলে তাদের বরাতে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। ‘দ্য ইয়াংতসি ইভেনিং পোস্ট’-এর তথ্যমতে, চুক্তিটি সম্পন্ন হলেও এর মূল্য বা এটি ২০২৬ এবং ২০৩০ সালের টুর্নামেন্টগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে কি না তা প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান সিসিটিভি স্বত্ব পেয়েছিল। খেলা মাঠে গড়ানোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রচারণামূলক কনটেন্ট এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে। এ বিষয়ে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সমাদৃত সিসিটিভির মন্তব্য জানতে রয়টার্স অনুরোধ করলেও সাড়া দেয়নি তারা।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ফিফা সম্প্রচার চুক্তি বিশ্বের ১৭৫ অঞ্চলে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ঝুলে ছিল চীন এবং ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচারের বিষয়। ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়াস গ্রাফস্টর্ম এই সপ্তাহে বেইজিংয়ে সফর করেছেন। এ সময় তিনি চাইনিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সং কাইয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন, যেখানে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে সিএমজি’র সঙ্গে ফিফার আলোচনা সমাধানের কাছাকাছি বলে গুঞ্জন শোনা যায়।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, চীনে মোবাইল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মিগুকে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচার বন্টন চুক্তি সম্পন্ন করতে বলেছিল সিসিটিভি কর্তৃপক্ষ। তবে ওই সূত্র ঠিক কত টাকায় ফিফা ও সিসিটিভির মাঝে চুক্তির শর্ত ছিল তা নিশ্চিত হতে পারেননি। এখন পর্যন্ত জানা যায়নি মিগু’র মন্তব্য–ও। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, চীনে মোবাইল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মিগুকে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্প্রচার বন্টন চুক্তি সম্পন্ন করতে বলেছিল সিসিটিভি কর্তৃপক্ষ। তবে ওই সূত্র কত আর্থিক অঙ্কে ফিফা ও সিসিটিভির মাঝে চুক্তির শর্ত ছিল তা নিশ্চিত হতে পারেননি। এখন পর্যন্ত জানা যায়নি মিগু’র মন্তব্য–ও।

২০১৮ সালে সিসিটিভি কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব মিগু এবং আলিবাবার ইউকু’কে সাব-লাইসেন্স দেয়, যা ছিল অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে তাদের প্রথম লাইভ ডিজিটাল স্বত্ব ভাগাভাগি। কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ সালের টুর্নামেন্টের জন্য সিএমজি মিগু, ডুইন এবং বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক টিভি স্টেশন পর্যন্ত এর বিতরণ প্রসারিত করে।

চীন বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নিশ্চয়তা পেলেও, ভারতীয় ফুটবল সমর্থকদের এখনও দুশ্চিন্তা কাটেনি। এর আগে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের সঙ্গে সময়সূচির সুবিধার কারণেই ২০২২ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ মালিকানাধীন ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ভায়াকম১৮ বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে ৬ কোটি ডলার খরচ করেছিল এবং তাদের জিওসিনেমা প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে ম্যাচগুলো সম্প্রচার করা হয়। ভারতের ক্রীড়া ব্যবসাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্টেট অব প্লে’–এর তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর সময় জিওসিনেমার মাসিক ইউনিক ভিজিটর ছিল ৩০ লাখেরও কম, যা ফাইনালের সময় বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছায়।

ওই চুক্তিতে অবশ্য ভায়াকম১৮ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিজ্ঞাপন থেকে তারা আয় করে মাত্র ৩ কোটি ডলারের মতো। ভারতীয় বাজার বোঝার জন্য বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জিওসিনেমার নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন ফি নিলেও সেটি বছরে মাত্র ১৪ ডলার। ভারতীয় গণমাধ্যম কোম্পানিগুলোর মূল আয় আসে বিজ্ঞাপন থেকে, সাবস্ক্রিপশন থেকে নয়। ফলে কাতার বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শীতকালে এবং তুলনামূলক সুবিধাজনক সময়ে সম্প্রচারিত হলেও, বিজ্ঞাপন আয় সম্প্রচারস্বত্বের খরচ তুলতে যথেষ্ট ছিল না। এখানেই দেখা দেয় ফিফার পরবর্তী সমস্যা। 

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন