‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৭ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একটি সভায় বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মিজানুর রহমান। আলাউদ্দিন নামে যুবদলের কর্মী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ। আলাউদ্দিন হাজীনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাজীনগর ইউপির উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভুলবশত স্লোগান দিয়ে ফেলেছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় বৈঠকে উপস্থিত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।
একপর্যায়ে তিনি ও তার সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে আবার ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই স্লোগান দেওয়া যে কারো জন্য বিপজ্জনক। বৃহস্পতিবার সভায় মুখ ফসকে ‘জয় বাংলা’ বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করি। এরপরও সবার সামনে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করেন। যদিও যুবদলের কোনো পদে থাকার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, মিজানুর রহমান বক্তব্যের একপর্যায়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। সঙ্গে সঙ্গে আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করি। সবাই যখন উত্তেজিত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি অন্যভাবে চলে যায়। পরে মিজানুর রহমান মাইকে সবার কাছে ক্ষমা চান। এখানে আমাকে একাই দায়ী করা হচ্ছে।
হাজীনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি কিংবা যুবদল নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তিনি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করেছেন। অতীতে তার বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তা করা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়েছি। যদিও পরবর্তী সময়ে এই স্লোগানের অপব্যবহার করে বিতর্কিত করে ফেলা হয়েছে।
এমআর/টিএ