জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে ব্রাজিলের সমর্থন
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪০ এএম | ১৬ মে, ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নির্বাচনে সভাপতি পদে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রাজিল। পাশাপাশি ব্রিকসে অন্তর্ভুক্তিরও আশ্বাস দিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দেশটির পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠকে এই সমর্থনের কথা জানান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম।
চলতি বছরের ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে বাংলাদেশ সাইপ্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ব্রাজিলের পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থিতায় সমর্থন জানিয়েছে আলজেরিয়াও।
এদিকে বৈঠকে হুমায়ুন কবিরকে দুদেশের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ ও কৌশলগত সমন্বয় আরও গভীর করতে নিয়মিত বৈঠকের প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন সেলসো আমোরিম। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বোঝাপড়া জরুরি।’
এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এর মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে।’
বৈঠকে বাংলাদেশ-ব্রাজিল বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ জানায়, দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সম্ভাবনার তুলনায় বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনও অপর্যাপ্ত বলে মত দেন তারা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে ব্রাজিল সমর্থন করবে জানিয়ে উপদেষ্টা আমোরিম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতি ব্রাজিলের এই সমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকা, অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতার প্রতি অঙ্গীকার এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।’
ব্রাজিলের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিশ্ব যখন যুদ্ধ, বৈষম্য, জলবায়ু সংকট ও বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন জাতিসংঘকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি একে অপরকে পরিপূরক করতে সক্ষম। বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি ও কৃষিপণ্য আমদানি করে, অন্যদিকে ব্রাজিলে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিক রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানো যেতে পারে।’
বৈঠকে চলতি বছরের ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিতব্য ফরেন অফিস কনসালটেশনস (এফওসি) নিয়েও আলোচনা হয়। কৃষি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, জ্বালানি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে ‘সমতা, মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা’র ভিত্তিতে। বর্তমান সরকার নতজানু বা আত্মসমর্পণমূলক পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের কূটনীতি হবে আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক।
দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
বৈঠকে ব্রিকসের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহও তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে সেলসো আমোরিম জানান, তিনি বিষয়টি প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
এ সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) ঢাকায় একটি শাখা স্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনডিবির সদস্য হলেও দেশে ব্যাংকটির কোনো শাখা না থাকায় সীমিতসংখ্যক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
টিজে/টিএ