© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গ্ল্যামারের আড়ালে কানের বিতর্কিত মুহূর্ত

শেয়ার করুন:
গ্ল্যামারের আড়ালে কানের বিতর্কিত মুহূর্ত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০৭ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনগুলোর একটি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। লালগালিচার জৌলুস, দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশন আর তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতির জন্য যেমন বিখ্যাত এই উৎসব। এইসব আলোর পাশাপাশি বিতর্ক, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ আর অস্বস্তিকর ঘটনাতেও বারবার শিরোনাম হয়েছে উৎসবটি।

কখনও অভিনেত্রীকে হাই হিল না পরায় আটকে দেওয়া হয়েছে, কখনও পরিচালক সাংবাদিকের মুখে থুতু ছিটিয়েছেন। আবার কোনো চলচ্চিত্র দেখে দর্শক হল ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন, কেউ কেউ অসুস্থও হয়ে পড়েছেন। এমনকি হিটলারকে নিয়ে মন্তব্য করে এক পরিচালককে উৎসব থেকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান কানের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে উঠে এসেছে গত কয়েক দশকের নানা চমকে দেওয়া কাহিনি।

হাই হিল না পরায় প্রবেশ নিষেধ



২০১৫ সালে Carol ছবির গালা প্রদর্শনীতে কয়েকজন নারীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, কারণ তারা হাই হিল পরেননি। একই ঘটনার শিকার হন প্রযোজক ভ্যালেরিয়া রিখটারও, যদিও তার একটি পায়ের অংশ কাটা ছিল। পরে এর প্রতিবাদে খালি পায়ে লালগালিচায় হাঁটেন জুলিয়া রবার্টস।

পুরস্কারজয়ীর প্রতি দর্শকের বিদ্রূপ

১৯৮৭ সালে পরিচালক মরিস পিয়ালাত তার চলচ্চিত্র ‘আন্ডার দ্য সান অব স্যাটান’এর জন্য পাম দ’র জেতেন। কিন্তু তার নাম ঘোষণা হতেই দর্শকদের একাংশ দুয়ো দিতে শুরু করে। জবাবে ক্ষুব্ধ পিয়ালাত বলেন, ‘আপনারা যদি আমাকে পছন্দ না করেন, আমিও আপনাদের পছন্দ করি না।’

সাংবাদিকের মুখে থুতু!

২০২৩ সালে ফরাসি নির্মাতা মাইওয়েনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। একটি রেস্টুরেন্টে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক এদুই প্লেনেলের চুল টেনে ধরে তার মুখে থুতু ছিটানোর অভিযোগে তাকে জরিমানাও করা হয়। সেই সময় তার ছবি ‘জান দু বারি’ কান উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ছিল।



চার মাসের শিশুকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি

২০১৯ সালে ব্রিটিশ নির্মাতা গ্রেটা বেলামাসিনা নিজের চার মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে উৎসবে প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। পরে অনেক বিতর্কের পর শিশুটিকে ‘ডেলিগেট’ হিসেবে নিবন্ধনের শর্তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়।

ছবির প্রদর্শনীতে দর্শকের বমি!

১৯৭৩ সালে পরিচালক মার্কো ফেরেরির চলচ্চিত্র ‘লা গ্রঁদ বুফ’ প্রদর্শনের সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দর্শকদের দুয়ো, চিৎকার আর উত্তেজনার মধ্যেই গুঞ্জন ওঠে যে জুরি প্রধান ইনগ্রিড বার্গম্যান ছবিটি দেখে অসুস্থ হয়ে বমি করেছিলেন।

হল ছেড়ে বেরিয়ে যান শতাধিক দর্শক

২০০২ সালে গাসপার নোয়ে- এর বিতর্কিত ছবি ‘ইরিভার্সিবল’ প্রদর্শনের সময় শত শত দর্শক হল থেকে বেরিয়ে যান। ছবির সহিংস দৃশ্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, অনেকে নির্মাতাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলেও মন্তব্য করেন।

স্পাইক লির ক্ষোভ

১৯৮৯ সালে স্পাইক লি- এর আলোচিত ছবি ‘ডু দ্য রাইট থিং’ পাম দ’র না জেতায় তিনি জুরি প্রধান ভিম ভেন্ডার্স–এর ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন। পরে অবশ্য নিজের মন্তব্যকে ‘অপরিণত’ বলে স্বীকার করেছিলেন তিনি।

৮২ নারীর প্রতিবাদ

২০১৮ সালে কানে নারী নির্মাতাদের কম প্রতিনিধিত্বের প্রতিবাদে লালগালিচায় একসঙ্গে দাঁড়ান ৮২ জন নারী। তাদের মধ্যে ছিলেন কেট ব্ল্যানচেট, ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ও সালমা হায়েক। ১৯৪৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত কেবল ৮২ জন নারী নির্মাতা কানের লালগালিচায় জায়গা পেয়েছিলেন-এই প্রতীকী বার্তাই তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবাদে।

হিটলার মন্তব্যে নিষিদ্ধ পরিচালক

২০১১ সালে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেন ডেনিশ নির্মাতা লার্স ফন ত্রিয়ার। নিজের ছবি ‘মেলানকোলিয়া’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি হিটলারকে বুঝতে পারি।” সেই সঙ্গে নিজেকে ‘নাৎসি’ বলেও মন্তব্য করেন। এতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তাকে কান উৎসব থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।

কানের ইতিহাসে এমন বিতর্কের তালিকা আরও দীর্ঘ। কখনও লালগালিচায় অপমান, কখনও গয়না চুরি, কখনও আবার ছবির প্রদর্শনী ঘিরে মারামারি—সব মিলিয়ে বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে গ্ল্যামারাস উৎসবটির ইতিহাসে আলো আর অন্ধকার যেন পাশাপাশি হেঁটেছে সবসময়।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন