টলিউডে একাধিক পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রূপা
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৩ পিএম | ১৭ মে, ২০২৬
টলিউডে ফেডারেশন এর ভূমিকা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে৷ নানা সময় নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই বিজেপি বিধায়ক রূপা গাঙ্গুলি জানালেন আগামী দিনে টলিউডে কী কী পরিবর্তন করা হবে? কেমন হবে 'নতুন' টলিউড?
বিজেপি আসার পরে অনেকের মধ্যেই নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে৷ আপনারা কোন কোন পদক্ষেপ করার কথা ভাবছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে রূপা গাঙ্গুলি জানান, "অনেক লম্বা পরিকল্পনা হয়েছে, ছোট উদাহরণ দিই, নন্দনে স্ত্রিনের যত্ন, সাউন্ড সিস্টেমের যত্ন নেওয়া হয়নি৷ নানা জায়গায় যাচ্ছি, রিপোর্ট নিচ্ছি৷ কাজ করা হবে সেই মতো। সকলে মিলে দায়িত্ব পালন করবে৷ পক্ষপাতদুষ্ট নয়, এমন মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হবে৷ কারও একার স্বৈরাচারী রাজত্ব চলবে না৷ আমাদের এখনও পূর্ণ সরকার গঠন হয়নি৷ মাত্র ১০ দিন হল কাগজটা হাতে পেয়েছি৷ একটু সময় দিন, সব সত্য সামনে আসবে৷ সত্যের জয় হবে৷"
রূপা বলেন, "হল পাওয়ার ক্ষেত্রে মেধার কোনও জায়গা ছিল না৷ যেটা ছিল কার কত পরিচয়, কার হাত কতটা লম্বা, সেই বুঝে হল দেওয়া হত৷ এগুলো আর থাকবে না৷ একটা সিনেমা যখন মুক্তি পায় বা একটা নাটক যখন প্রথম মঞ্চস্থ হয়, মানুষ তিন চারদিনের মধ্যেই একটা আভাস দিয়ে দেয় ভাললাগছে কি না, মুখে মুখে প্রচার হয়েই সিনেমা জনপ্রিয় হয়৷ বিশাল বড় বড় হোর্ডিং করার সামর্থ্য সকলের থাকে না৷ সেরকম প্রয়োজন হবে না আর৷ কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রমোশন করার প্রয়োজন আর পড়বে না৷ এই মেরিট ঠিক করবে জনতা৷ অডিয়েন্স ঠিক করবে কোন সিনেমা কতবার দেখব৷ এই যে প্রত্যাবর্তন এত মানুষের ভাললাগছে, সিনেমা হাউজফুল যাচ্ছে, সেটা তো মানুষ জানিয়েছেন৷"

ব্যান কালচার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রূপা গাঙ্গুলি পাশে বসে থাকা রুদ্রনীলের পিঠ চাপড়ে বলেন, "এসব কিচ্ছু হবে না৷" রূপা গাঙ্গুলি আরও বলেন, "বিশেষ কোনও অভিনেতা অভিনেত্রীকে নেওয়া যাবে না তেমনটা কিন্তু ছিল না৷ যেটা ছিল তা হল একটা চোরাগোপ্তা ভয় ছিল বিশেষ অভিনেতা অভিনেত্রীদের সিনেমায় নিলে সিনেমা রিলিজ করতে পারবে না। সেই ভয়টা গত ১০ বছর ছিল৷ আমার ৩৫ বছরের অভিনয়ের কেরিয়ার৷ বহু পরিচিত মানুষ, প্রযোজক, পরিচালক, পুলিশ অফিসার, উদ্যোগপতি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেতেন৷ আমি হতবাক হয়ে যেতাম৷ আগে খবরের কাগজে সিটি এডিশন ছিল না৷
আমি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গিয়েছি, এইটুকু খবর বের হয়েছিলো৷ আমাদের সময় থেকে শুরু হল সিটি এডিশন৷ যাঁদের জন্য সিটি এডিশন রমরম করে চলল, হঠাৎ একটা রেজিম এলো, সেই রেজিমে আমাদের কোথাও যাওয়া নিষেধ৷ কেউ ডাকবে না, কেউ কথা বলবে না৷ বাড়ি গিয়ে মেসেজ করবে, অনেকদিন পর দেখলাম ভাল লাগলো৷ এই সমস্ত অশান্তির শেষ৷ আর কেউ কাউকে ভয় পাবে না৷ ন্যায় এবং অন্যায়, সৎ আর অসৎ এই দুই ভাগ থাকবে৷ আর কিছু না।"
এসএন