© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বার্নলির বিপক্ষে কষ্টের জয়ে শিরোপার আরও কাছে মিকেল আর্তেতার দল

শেয়ার করুন:
বার্নলির বিপক্ষে কষ্টের জয়ে শিরোপার আরও কাছে মিকেল আর্তেতার দল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪১ এএম | ১৯ মে, ২০২৬
ধীরলয়ে শুরু ম্যাচে সময় গড়ানোর সঙ্গে আক্রমণের ধার বাড়াল আর্সেনাল। পোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় গোলের অপেক্ষা বাড়ল বটে, তবে তা দীর্ঘ হলো না। কাই হাভার্টজ দলকে এগিয়ে নিলেন প্রথমার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও পোস্ট দাঁড়াল দেয়াল হয়ে। তাতে ব্যবধান না বাড়লেও, কষ্টের জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল মিকেল আর্তেতার দল।

এমিরেটস স্টেডিয়ামে সোমবার প্রিমিয়ার লিগের ৩৭তম রাউন্ডে টেবিলের নিচের দিকের দল বার্নলির বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে আর্সেনাল। ১-০ ব্যবধানের জয়ে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর পাচ্ছে প্রথম লিগ শিরোপার ঘ্রাণ।

৩৬ ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিটি। তাদের বাকি আছে দুই ম্যাচ, আর্সেনালের একটি। সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ৫ হলেও, স্বপ্ন পূরণে কাজ এখনও বাকি। শেষ রাউন্ড ‘গানার’ খ্যাত দলটি খেলতে যাবে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে।



ঘরের মাঠে উৎসবের আমেজে শুরু হওয়া ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে বুকায়ো সাকার শট এক ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে দিক পাল্টে পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। সেই কর্নার থেকে কাই হাভার্টজের বাম পায়ের শটও থাকেনি লক্ষ্যে। এরপরই দুর্ভাগ্য পথ আগলে দাঁড়ায় আর্সেনালের। লেয়ান্ড্রো ট্রসাডের ডান পায়ের জোরাল শট গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে লাগে।

আর্সেনালের চাপ সামলে ২৭তম মিনিট পাল্টা আক্রমণে ওঠে প্রথম লেগের দেখায় ২-০ গোলে হারা বার্নলি। তবে, সতীর্থের ক্রসে হান্নিবাল মেজেব্রির শট যায় পোস্টের অনেক বাইরে। একটু পর ডান দিকের বাইলাইনের একটু ওপর থেকে সাকার আড়াআড়ি ক্রসে হেড দেওয়ার কেউ ছিল না গোলমুখে।

৩৪তম মিনিটে বক্সে লুকাস পিয়ার্স বল দখলের লড়াইয়ে সাকার পা মাড়িয়ে দিলে পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে আর্সেনাল। মেলেনি রেফারির সাড়া। ভিএআরে পা মাড়ানোর দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেলেও রেফারি বদলাননি আগের সিদ্ধান্ত।

তিন মিনিট পরই হতাশ গ্যালারি মেতে ওঠে উল্লাসে। সাকার নিখুঁত কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে হাভার্টজের হেডে বল চোখের পলকে জালে জড়ায়। আর্সেনাল সমর্থকদের মধ্যে ফিরে আসে ম্যাচ শুরুর আগের উচ্ছ্বাস। লিগে সবশেষ হোম ম্যাচ হওয়ায় কিক অফের আগেই উৎসবে মেতেছিল তারা। নানা রঙের ফ্লেয়ার আর হর্ষধ্বনিতে তারা মাতিয়ে রাখে স্টেডিয়ামের ভেতর-বাহির।

প্রথমার্ধে ৯ শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারা আর্সেনাল দ্বিতীয়ার্ধে বার্নলিকে চেপে ধরার চেষ্টা করতে থাকে। ৫৩তম মিনিটে আবারও দূর্ভাগ্যের শিকার তারা। এবার এবেরেচি এজের সাইড ভলি ড্রপ খেয়ে ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়।

এরপর থেকে আর্সেনালের আক্রমণের ধার কমতে থাকে। ৬৭তম মিনিটে লেসলিকে অহেতুক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন হাভার্টজ। জার্মান এই ফরোয়ার্ডের ভাগ্য ভালো যে ভিএআর চেক করলেও, কার্ডের রং বদলাননি রেফারি। একটু পরই হাভার্টজকে তুলে নেন আর্তেতা।

সতীর্থের ব্যকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ৭৯তম মিনিটে বার্নলি গোলকিপার ম্যাক্স ওয়েসিস একটু সময় নেন। একই সময়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ছুটে যান ভিক্তর ইয়োকেরেশ। তবে ওয়েসিস শট নেওয়ার সময় তার সাথে সংঘর্ষে পড়ে যান ইয়োকেরেশ। তাদের ফাউলের আবেদনে যদিও সাড়া মেলেনি।

যোগ করা সময়ের শুরুতে উড়ে আসা বলের নিয়ন্ত্রণ পেতে আর্সেনাল গোলকিপার দাভিদ রায়া ও বার্নলির জিয়ান ফ্লেমিং প্রায় একই সময়ে লাফিয়ে ওঠেন। তাতে সংঘর্ষ হলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান ফ্লেমিংকে।

শেষের বাঁশি বেজে ওঠার আগ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণের ভালো সুযোগ পান গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। কিন্তু গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকারের চ্যালেঞ্জে শটই নিতে পারেননি তিনি।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন