© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রসিকের ৮৫৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

শেয়ার করুন:
রসিকের ৮৫৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:১৬ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ৫ হাজার করে মোট ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে এই চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাকিব হাসান।
অনুষ্ঠানে রসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে ঈদ উপহারের চেক তুলে দেন।

এর আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্বগ্রহণের পর একটা পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেসব কাজ শুরু করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মূল্যায়ন। প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কষ্ট ও শ্রমকে মূল্যায়ন করেন বলেই ধারাবাহিকভাবে ঈদুল ফিতরের পর এবার ঈদুল আযহাতেও ঈদ উপহার প্রদান করছেন।

মাহফুজ উন-নবী বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বাবলম্বী ও স্বচ্ছল করার জন্য কাজ করছে সরকার। সংকটময় পরিস্থিতি এবং নাজুক অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা মেনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা রংপুর নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। ঈদের আগে ও পরে সবসময়ই এ প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সবচেয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না, যদি আপনারা আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। আপনারা (পরিচ্ছন্নতা কর্মী) নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিরলসভাবে কাজ করেন বলেই প্রধানমন্ত্রী আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এসময় পড়ালেখার মাধ্যমে শিক্ষিত জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গ্রিন ও ক্লিন রংপুর গড়তে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে বর্ষা ও ঈদে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন ঘোষিত সকল কার্যক্রমে নগরবাসী সহযোগিতা করলে ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাকিব হাসান বলেন, আপনারা এই নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এখন রাতে ও ভোরে কষ্ট করে কাজ করছেন। রংপুর সিটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আপনাদের। আপনারা কাজ না করলে নগর সুন্দর ও দুর্গন্ধমুক্ত থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের প্রাণ, আপনারা আমাদের শক্তি। সরকার প্রধান আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এখন আপনাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। নিজেদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে একটা সুন্দর পরিচ্ছন্ন নগরের পাশাপাশি দেশ গড়তে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে, এটা আমাদের সবার কাজ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নাঈম হাসান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার আসন্ন কোরবানির ঈদে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজের উদ্যম আরো বাড়িয়ে দেবে। নগরবাসী যাতে কোরবানির বর্জ্যে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রসিকের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রুবেল রানা, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়সহ রসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, অনুষ্ঠানে উপহারের চেক হাতে পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বুলবুল আহমেদ ও হাসনা বানু। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহারের ৫ হাজার টাকা পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দেশ পরিচালনায় সাফল্য কামনা করেন।

পরিচ্ছন্নতা কর্মী বুলবুল আহমেদ বলেন, আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে রংপুর মহানগর প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আমরা আজ ভীষণ খুশি পর পর দুই ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমাদের প্রতি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্মান দেখিয়েছেন, আমরা এ জন্য কৃতজ্ঞতা। এই উদ্যোগের ফলে আমাদের কর্মীদের মধ্যে ঈদ আনন্দে একটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

এর আগে, গেল ১৭ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষেও রংপুর সিটি করপোরেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ৮৫৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মাঝে উপহার হিসেবে ৫ হাজার করে মোট ৪২ লাখ ৭৫ হাজার লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন