‘লেনদেনে’ ইডিসিএলের এমডি নিয়োগ! বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে প্রজ্ঞাপন, তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪৯ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
বিদ্যমান আইন, বিধি এবং পরিচালনা পর্ষদকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) নতুন এমডি নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের বোর্ড সভার অনুমোদন ছাড়াই আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ এই নিয়োগের পেছনে বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ও বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র বলছে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ এই শীর্ষ পদটি পাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার ‘অফার’ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন বলে প্রশাসনের অলিন্দে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
ইডিসিএলের নিয়ম অনুযায়ী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে এমডি নিয়োগের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা। অথচ বর্তমান বোর্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থান করছেন। এমন সময় গত ২১ মে এক প্রজ্ঞাপনে আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
এমন এক সময়ে, যখন পর্ষদের শীর্ষ কর্তারা দেশের বাইরে, তখন তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ দেওয়ায় খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।
ইডিসিএলের একজন কর্মকর্তা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও তারা বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দিতে মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বৈঠকে নতুন এমডি নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো এজেন্ডা বা সিদ্ধান্ত আসেনি।
বোর্ডকে অন্ধকারে রেখে আকস্মিক এই নিয়োগের বিষয়ে ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আশরাফী আহমদ বলেন:
"সর্বশেষ বোর্ড সভায় নতুন এমডি নিয়োগের বিষয়ে কোনো এজেন্ডাই ছিল না। আমরা বিষয়টি জানি না। ফলে বোর্ডের অনুমোদনের প্রশ্নই আসে না।"
গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও, শনিবার রাত পর্যন্ত সেটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি, যা এই নিয়োগের গোপনীয়তা ও রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, ‘দ্য কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯৯৪’-এর আওতায় মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন অব ইডিসিএলের ৫৪ (৩) ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের পর নতুন এমডি ইতিমধ্যেই যোগদানপত্র জমা দিলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের সর্বত্র তোলপাড় চলছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে গত ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ১৮৫তম বোর্ড সভার অনুমোদনক্রমে মো. সামাদ মৃধাকে ইডিসিএলের এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বহিরাগত ব্যক্তি কার্যালয়ে প্রবেশ করে সামাদ মৃধাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশি পাহারায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই পদটি পাওয়ার জন্য সবসময়ই সবচেয়ে বেশি টাকার অফার করা হয় বলে প্রশাসনে এক ধরনের ‘ওপেন সিক্রেট’ প্রচলিত রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আগামীর সময়