চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা পরিষদের প্রশাসকজেলা বিএনপির সবাই ‘গুপ্ত জামায়াত’
ছবি: সংগৃহীত
১০:১২ পিএম | ০২ জুন, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির নেতাদের ‘গুপ্ত জামায়াত’ ও বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়েছেন সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ। অন্যদিকে তার মন্তব্যকে জেলা বিএনপির নেতারা ‘ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও কুরুচিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
শনিবার (৩০ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটুহল মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান দায়িত্বশীল নেতারা সবাই ‘গুপ্ত জামায়াত’ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিএনপির পক্ষে কাজ করেননি।
তার ভাষ্যে, বর্তমান জেলা বিএনপির দায়িত্বে যারা আছেন, সব কয়টা গুপ্ত জামায়াতের সদস্য। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, তারা কেউ বিএনপির ভোট করেনি। আমি পার্টির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবো তদন্ত করতে হবে।
হারুনুর রশিদ আরও অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী বিভিন্ন সময় সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বে যারা ছিল, একজনও বিএনপির পক্ষে ভোট করেনি।’ এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মী ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা গেছে।
এদিকে তার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান জেলা কমিটি তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় রয়েছে। তার দাবি, অতীতে হারুনুর রশিদ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষেও কাজ করেছিলেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াও এ বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, হারুনুর রশিদ অতীতে নিজেই জেলা কমিটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, অথচ এখন সেই কমিটিকেই লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই বক্তব্যকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আরও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
এমআর/টিএ