ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে বিল পুলটেকে নিয়োগ দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৪ এএম | ০৩ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান বা ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র বিল পুলটেকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর, রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (২ জুন) দেওয়া এ নিয়োগের ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা কার্যক্রমে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা ৩৮ বছর বয়সি পুলটে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির দায়িত্বে থাকবেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির (এফএইচএফএ) পরিচালক এবং সরকারি সমর্থিত মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাকের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন পুলটে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই পদগুলোর পাশাপাশি জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্বও পালন করবেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, উইলিয়াম (বিল পুলটে) আমেরিকার সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর ব্যবস্থাপনায় গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ তদারকি করছেন।
তবে সমালোচকদের মতে, আবাসন খাতের অভিজ্ঞতা থাকলেও গোয়েন্দা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে পুলটের কোনো পেশাগত অভিজ্ঞতা নেই। তবুও তিনি এখন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ), ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধান করবেন।
এর আগে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি গত মাসে ঘোষণা দেন যে ৩০ জুন থেকে পদ ছাড়বেন। যদিও তিনি স্বামীর অসুস্থতার কথা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে মতবিরোধের কথাও উঠে এসেছে।
এদিকে, এই নিয়োগ নিয়ে হচ্ছে বেশ সমালোচনাও। পুলটের নিয়োগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে রিপাবলিকান দলের মধ্যেও। রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন বলেন, এই দায়িত্ব পালনের মতো কোনো যোগ্যতার প্রমাণ আমি দেখছি না।
অন্যদিকে, সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চার্লস শুমার পুলটেকে দলীয় স্বার্থে কাজ করা ব্যক্তি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।
ভারপ্রাপ্ত হিসেবে পুলটে সিনেটের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ২১০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকতে পারেন।
এমআই/টিএ