৩৯১ দিন পর বাসায় ফিরলেন আইভী, ‘ধন্যবাদ’ দিলেন সরকারকে
ছবি: সংগৃহীত
০২:১১ এএম | ০৪ জুন, ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের ১২ মামলায় ৩৯১ দিন কারাভোগের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে অবশেষে বাড়িতে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভী।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে নিজ বাড়ি ‘চুনকা কুটিরে’ আসেন।
পরে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বক্তব্যে সরকারকে ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে তিন বারের মেয়র আইভী বলেন, “আমি চাই সকলকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরো অনেক মায়েরা আছেন, তারা নিরপরাধ। আশা করি, সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে।”
একইসঙ্গে তিনি বিচার বিভাগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার সময় আইভি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। তিনি একদিকে জামিন পাচ্ছিলেন, পরে আরেকদিকে তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছিল।
অবশেষে সব মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া শেষে এদিন রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটির সাবেক এই মেয়র। সেখান থেকে গাড়িতে সরাসরি চলে যান নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইরে কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থানে। সেখানে বাবা, মা ও ছোটভাইয়ের কবর জিয়ারত করেন।
রাতে চুনকা কুটিরে বাড়িতে ঢুকলে আইভীকে দেখে তার স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় বাড়ির বাইরে শতাধিক স্থানীয় এলাকাবাসীও ভিড় করেন। তবে অনেককে পুলিশ সরিয়ে দেয়।
এদিকে আইভীর কারামুক্তিকে ঘিরে ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে। চুনকা কুটিরের সামনেও বিপুল সংখ্যক পুলিশের অবস্থান ছিল। ২০২৫ সালের ৫ মে গ্রেপ্তারের পর আইভীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় কারাগারে আসা আইভীর জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সে সময় জেলার শিরিন আক্তার বলেন, আইভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় হাই কোর্টের দেওয়া জামিন পাওয়ার পর তা আপিল বিভাগেও বহাল রাখা হয়।
আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, “আইভীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মামলাগুলোর সঙ্গে আইভী কোনোভাবেই জড়িত নন। গত বছরের মে মাসে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছরেরও বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
“আমরা আইনিভাবে ওনার মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়েছি। তবে হাই কোর্ট তাকে জামিন দেওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের আদেশ বাতিল করার জন্য চেম্বার জজে যায়। আপিল বিভাগ শুনানি শেষে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখে। এতে আইভির মুক্তি পেতে বাধা কাটে।”
এমআই/টিএ