© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দাউদকান্দিতে যাত্রীর স্বর্ণ ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ

শেয়ার করুন:
দাউদকান্দিতে যাত্রীর স্বর্ণ ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল জার্নালিস্ট, কুমিল্লা
০৪:০১ পিএম | ০৫ জুন, ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক যাত্রীর হারিয়ে যাওয়া আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ। 

উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল দুটি স্বর্ণের চেইন ও দুটি কানের দুল। পুলিশের এই সততা ও মানবিকতায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিখিল এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে একুশে পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশ একটি সাদা কৌটার ভেতর আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার খুঁজে পায়। পরে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. নাজমুল হাসান, কনস্টেবল হাফিজুর রহমান, সাইদুর রহমান, মনির হোসেন ও তাজুল ইসলাম প্রকৃত মালিক সালমা বেগমকে শনাক্ত করেন। পরে তার হাতে দুটি স্বর্ণের চেইন ও দুটি কানের দুলসহ উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার হস্তান্তর করেন।

স্বর্ণালংকার ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত সালমা বেগম বলেন, ‘দুর্ঘটনার ধাক্কায় আমি ভেবেছিলাম আমার স্বর্ণালংকার আর ফিরে পাব না। কিন্তু পুলিশের সততা ও আন্তরিকতায় আমি আমার মূল্যবান জিনিসগুলো ফিরে পেয়েছি। সত্যিই পুলিশ জনগণের বন্ধু।’

কনস্টেবল হাফিজুর রহমান বলেন, ‘উদ্ধারকাজের সময় বাসের ভেতরে একটি সাদা কৌটা দেখতে পাই। কৌটা খুলে স্বর্ণালংকার দেখতে পেয়ে বিষয়টি সার্জেন্ট নাজমুল হাসান স্যারকে জানাই। পরে আমরা প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তার কাছে স্বর্ণালংকারগুলো বুঝিয়ে দিই।’

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ‘প্রকৃত মালিকের কাছে তার মালামাল পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের অংশ। আমার সহকর্মীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

পুলিশের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডে উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে প্রশংসার জোয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই মানবিক পুলিশ, বলে স্লোগান দেন। বিশেষ করে সার্জেন্ট মো. নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগ জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে।

সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সার্জেন্ট মো. নাজমুল হাসান। দুর্ঘটনার বিশৃঙ্খল মুহূর্তেও প্রকৃত মালিকের মূল্যবান সম্পদ খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, জনগণের সেবাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। তার এই মহৎ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

টিকে/

মন্তব্য করুন