কেটে ফেলা হলো ‘উঠে দাঁড়ানো’ সেই গাছ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪৯ পিএম | ০৫ জুন, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়ার পর আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া আলোচিত গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে উপজেলা প্রশাসন। গাছটিকে ঘিরে কুসংস্কার, অলৌকিকতার দাবি এবং মাজারসদৃশ পরিবেশ তৈরির অভিযোগের পর প্রশাসন এ পদক্ষেপ নেয়।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করা হয়। গাছটির মালিক একই গ্রামের প্রবাসী মো. রুহুল আমিন মুন্সি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে বচিয়ারা গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে থাকা গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়ে। পরে গাছটির ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলা হয়। প্রায় ১০ দিন আগে আরেকটি ঝড়ের পর ডালপালাবিহীন গাছটির অবশিষ্ট কাণ্ড আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গাছটিকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ কিংবা ‘জ্বিনের কাজ’ বলে প্রচার শুরু হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ভিড় করতে থাকেন। কেউ কেউ মানত করেন, আগরবাতি ও মোমবাতি জ্বালান। এমনকি গাছের শিকড় ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যান। একপর্যায়ে গাছের নিচে লাল কাপড় বাঁধা হয় এবং স্থানটিকে মাজারসদৃশ রূপ দেওয়ার
চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল, কাঠুরিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়ার সময় শিকড়ের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি উঠে আসে। পরে ডালপালা ও উপরের অংশ কেটে ফেলায় গাছের ভরকেন্দ্র পরিবর্তিত হয়। ফলে শিকড় ও মাটির ভারসাম্যের কারণে কাণ্ডটি আবার অনেকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. নান্নু মিয়া বলেন, গাছটি প্রায় ৮০ শতাংশ কাটা ছিল। মাথার অংশ কেটে ফেলায় উপরের অংশ হালকা হয়ে যায় এবং গোড়ার অংশ ভারী থাকায় এটি আবার দাঁড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গাছটিকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম হচ্ছিল এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। গাছের মালিকের অনুমতি নিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় এটি কেটে ফেলা হয়েছে।
এমআর/টিকে