© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল

শেয়ার করুন:
চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে খুন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৪৫ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
রাজধানীর রমনা থানা এলাকার মৌচাক-আনারকলি মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও এলাকার একক আধিপত্যের পুরোনো রেষারেষির জেরে খুন হয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার।

সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রমনা থানার সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ স্কুলের পাশে আনারকলি সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর রাতেই অভিযুক্ত যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার এবং রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন এবং পেশায় তিনি ছিলেন সিমেন্ট-বালু ব্যবসায়ী। মগবাজারের পৃথক দুটি এলাকায় দুই পরিবার ও ৬ সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ভাগনে মোবারক হোসেন আকাশ জানান, সোমবার রাতে তারা কয়েকজন আনারকলি মার্কেটের পার্কিং স্পটে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আনারকলি সুপার মার্কেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু তার অনুসারীদের নিয়ে সেখানে আসেন এবং তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে বাবু কোমর থেকে ছোরা বের করে বিল্লালকে আঘাতের চেষ্টা করলে ধাক্কাধাক্কিতে ছোরাটি মাটিতে পড়ে যায়। তখন বাবুর সহযোগী সিরাজুল মাটিতে পড়া ছোরাটি তুলে বিল্লালের বুকে সজোরে বসিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আজ মঙ্গলবার সকালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনার জেরে নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব। বিল্লাল সিনিয়র রাজনীতিবিদ হওয়ায় মৌচাক-আনারকলি এলাকার ফুটপাতের দোকানদাররা যেকোনো সমস্যায় তার শরণাপন্ন হতেন এবং তিনি তা মীমাংসা করতেন। ফুটপাতে চাঁদাবাজির একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে যুবদল নেতা বাবু এই সালিশি প্রথা পছন্দ করতেন না এবং বিল্লালের ওপর তার চরম ক্ষোভ ছিল। এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে ভাঙচুরের একটি মামলায় বাবুর ষড়যন্ত্রে বিল্লালকে আসামি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে বিল্লাল তিনমাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে নেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পরপরই রাতেই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে যুবদল। অভিযুক্ত রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একই সাথে রমনা থানা যুবদলের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সংগঠন।

এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, নিহত ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তি। তবে প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের চেয়ে ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিরোধের বিষয়টিই সামনে আসছে। পুলিশের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মৌচাক-আনারকলি এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্বশত্রুতার বিষয়টিই প্রধান সন্দেহ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এই ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এসএন 

মন্তব্য করুন