সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট, বেকায়দায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৫ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
ড়ুন: জাপানের পর এবার ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করল নেপালনেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ’র সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার যখন অর্থনীতি, বিতর্কিত অধ্যাদেশ, ভূমিহীন মানুষের দুর্দশা এবং বাজেট নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে, তখন প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার নতুন খোরাক তৈরি করে জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছেন।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে যখন প্রধানমন্ত্রী ফেসবুকে লেখেন: ‘আমিও রাষ্ট্রদূত হতে চাই। কারও কাছে প্রধানমন্ত্রীর নম্বর থাকলে আমাকে দিন।’ তার এই পোস্টের নিচে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করেন।
অনেকেই এটিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পদকে এভাবে হালকা বিনোদনের উপাদানে পরিণত করা উচিত নয়।
সমালোচকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাউট কালচার’ বা সামাজিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত বিতর্ক তৈরির কৌশল ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে তিনি জনসাধারণের দৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যা থেকে সরিয়ে ভাইরাল আলোচনায় নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, কূটনীতিক নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা জাতীয় সংকটের মতো বিষয়গুলোকে সামাজিক মাধ্যমের রসিকতায় পরিণত করা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে যায় না।
এর আগে এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কৃষ্ণ হরি পুশকরকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি নিজের স্বার্থে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সাবেক আমলারা এই ঘটনাকে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দেন। তাদের মতে, এতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
সমালোচকদের দাবি, এটি নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি সংসদ এড়িয়ে বিতর্কিত অধ্যাদেশ জারির সমালোচনা শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী নিজের একটি স্টাইলিশ ছবি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর ভূমিহীন মানুষের দুর্দশা নিয়ে আলোচনা চলাকালে তিনি পনির হাতে ছবি পোস্ট করে লেখেন ‘সে চীজ’, যা আবার সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এরপর নতুন বাজেট ঘোষণার পর তিনি শুধু ‘রেস্ট অ্যাসিউরড’ লিখে পোস্ট করেন এবং অনেকের মতে বাজেটের বাস্তব সমস্যা নিয়ে আলোচনা সরে গিয়ে সেই পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তরুণ নেতাদের মতে, এর ফলে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বাজেট, অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জনআলোচনা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অ্যালগরিদম খুব ভালোভাবে বোঝেন এবং জানেন কীভাবে জনমতকে নতুন কোনো ভাইরাল বিষয়ে ব্যস্ত রাখা যায়। এতে সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও নীতিনির্ভর রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষতি হতে পারে।
তবে এই অভিযোগগুলো মূলত সমালোচক, বিরোধী রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত। প্রধানমন্ত্রী ও তার সমর্থকেরা এসব কর্মকাণ্ডকে জনগণের সঙ্গে আধুনিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
এফআর/টিএ