ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্টদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে: সংসদে তাহের
ছবি: সংগৃহীত
০২:২৪ এএম | ১০ জুন, ২০২৬
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন, ইসলামী ব্যাংকে আবারও এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী উত্থাপিত এক নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তাহের বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। তার দাবি, এ সময়ে গ্রাহকেরা নতুন করে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা আমানত রাখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নেবে। তবে এখন ব্যাংকের অভ্যন্তরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের প্রসঙ্গ তুলে তাহের বলেন, তাদের নেতৃত্বে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছিল। হঠাৎ করে চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করার কারণ সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। তিনি আগের ব্যবস্থাপনা কাঠামো পুনর্বহাল এবং সংশ্লিষ্ট দুজনকে দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার বিষয় বিবেচনার আহ্বান জানান।
ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তার অভিযোগ, বর্তমানে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অন্যান্য শেয়ারধারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রকৃত শেয়ারধারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মালিকানা কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রসঙ্গে তাহের বলেন, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাকে ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি ছিল সততা ও দক্ষতা; সেই মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি।
তাহের সতর্ক করে বলেন, ব্যাংক পরিচালনায় এস আলম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে পুনর্বহাল করা হলে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে অনাস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আমানতকারীদের স্বার্থ ও অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা করা হোক এবং অতীতের মালিকানা পরিবর্তনের অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হোক।
গ্রাহকদের উদ্বেগ নিরসন না হলে পরিস্থিতি আন্দোলনের দিকে যেতে পারে বলেও সংসদে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।
এসকে/টিএ