বিল গেটসকে যেভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৫ পিএম | ১১ জুন, ২০২৬
চলতি বছর কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইল প্রকাশের পর তার সঙ্গে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই রুদ্ধদ্বার কক্ষে এ বিষয়ে গেটসের একটি সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
গত বুধবার (১০ জুন) হাউস ওভারসাইট কমিটির সদস্যদের এসব তথ্য দিয়েছেন গেটস। সেখানে তিনি বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানায় মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।
হাউস ওভারসাইট কমিটির শুনানিতে উদ্বোধনী বক্তব্যে এই মার্কিন ধনকুবের বলেন, ‘আমি এপস্টেইনকে কখনো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে দেখিনি এবং এর কোনো আভাসও পাইনি।’
লিটল সেন্ট জেমস বা এপস্টাইন দ্বীপে যাওয়ার বিষয়ে বিল গেটস বলেন, ‘আমি কখনো তার দ্বীপ, তার খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার বাড়িতে যাইনি।
আমি কখনো কাউকে ভুক্তভোগী বানাইনি। তিনি হয়তো একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি তাতে সাড়া দিইনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানতে পারি, এপস্টিন আমার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সংবেদনশীল তথ্য জেনে গেছেন।
এর মধ্যে ছিল আমার বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত না থাকার বিষয়টি।’
তবে এই পরকীয়া আর এপস্টেইনের সঙ্গে আমার মেলামেশার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এগুলো আমার পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক ছিল বলেও জানান তিনি।
গেটস তার সাক্ষ্যে অভিযোগ করেন, তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এপস্টেইন তার পরকীয়া সম্পর্কে যা জানতেন, তাতে আরও অনেক মিথ্যা তথ্য যোগ করে তার সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করতে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে গেটস আরো বলেন, ‘এপস্টেইন এই চেষ্টায় সফল হননি।
আমার আসলে এপস্টেইনের সঙ্গে আমার দেখাই করা উচিত হয়নি।’
কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সীমিত’ বলে বর্ণনা করেন গেটস। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
গেটসের সাক্ষ্য সম্পর্কে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যানসবারি বলেন, ‘এপস্টিনের সুনাম বা কুখ্যাতি সম্পর্কে জানতেন বলে স্বীকার করেছেন বিল গেটস। তিনি স্বীকার করেছেন এপস্টিন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত, তার ভাষায়, তিনি ধনী দাতাদের কাছে পৌঁছানোর গ্রহণযোগ্য একটি মাধ্যম হিসেবে এই সীমিত সম্পর্ক রেখেছিলেন।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছর কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইলগুলো প্রকাশের পর তার সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই রুদ্ধদ্বার কক্ষে গেটসের এই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে বলে জানায় মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।
টিকে/