© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাজেটকে যারা দলীয়করণ বলছে, তারা খুবই নিকৃষ্ট লোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
বাজেটকে যারা দলীয়করণ বলছে, তারা খুবই নিকৃষ্ট লোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৪৩ পিএম | ১২ জুন, ২০২৬
শনিবার প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফরের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার বিকেল কক্সবাজারের চকরিয়া পৌঁছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থল, জনসভা মঞ্চ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি যাতে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নতুন বাজেটের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এটি ব্যাংকমুখী নয়, গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে বিএনপি সরকার; যারা দলীয়করণ বলছে, তারা খুবই নিকৃষ্ট লোক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ কি বিএনপির জন্য নেওয়া হয়েছে? অবশ্যই নয়। এটি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। মানুষের চাহিদা হলো—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই বাজেট কি গণমুখী নয়?

এটি কি দরিদ্রবান্ধব নয়? এটি কি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন নয়? নিঃসন্দেহে এই বাজেট গণমুখী, দরিদ্রবান্ধব এবং জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া আমাদের যে অঙ্গীকারগুলো ছিল—কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা—সেসব বিষয়ও এই বাজেটে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে একদিকে জনগণের ওপর করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে উন্নয়ন বাজেটে দেশীয় আয়ের অবদানও বাড়বে। আমরা যদি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবসময় ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীলতার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। সেই লক্ষ্য থেকেই আমরা রাজস্বভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এটিই আমাদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং নির্বাচনী জোটের সমর্থনে গঠিত সরকারের বাজেট। কেউ যদি এটিকে ‘দলীয় বাজেট’ বলে আখ্যায়িত করেন, তাহলে আমি বলব—গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারের বাজেটকে শুধুমাত্র দলীয় বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করা একটি অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত মন্তব্য।’

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন