গাইবান্ধায় এবার মেসির ভাস্কর্য বানালেন এক তরুণ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৬ পিএম | ১৬ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট সামনে এলেই বাংলাদেশজুড়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে আলাদা এক উন্মাদনা দেখা যায়। গ্রামে গ্রামে ফুটবলকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ, পতাকা আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। সেই আবেগ এবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক গ্রামে ছড়িয়ে দিয়েছে ভিন্ন এক আলোড়ন।
নিজের প্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা থেকে ছোট দুর্গাপুর গ্রামের তরুণ শিল্পী ধনঞ্জয় মোহন্ত রাজু মাটি, খড় ও রঙের মিশেলে তৈরি করেছেন এক জীবন্ত ভাস্কর্য। মাত্র ছয় দিনের নিরলস পরিশ্রমে তৈরি এই শিল্পকর্ম এখন শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের আগ্রহ আর কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজুর বাড়ির সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের ভিড়। কেউ দূর থেকে এসে দাঁড়িয়ে দেখছেন, কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, আবার কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে বলছেন, মনে হচ্ছে যেন মেসি নিজেই সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে যাচ্ছেন এই ভাস্কর্যের সামনে।
স্থানীয়রা জানান, ধনঞ্জয় মোহন্ত রাজু ছোটবেলা থেকেই তার বাবার সঙ্গে মাটির প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। মাটি আর রঙের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই তরুণের ভেতরে শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ছিল গভীর। সেই অভিজ্ঞতা আর ভালোবাসার সমন্বয়েই তিনি এবার ফুটবল তারকাকে বেছে নিয়েছেন।
ধনঞ্জয় মোহন্ত রাজু বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। মেসির খেলা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই ভাস্কর্য তৈরি করেছি। ছয় দিন ধরে দিন-রাত কাজ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এসে যখন প্রশংসা করে, তখন সব কষ্ট সার্থক মনে হয়। এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা কাজ হয়ে থাকবে।’
এই গল্পের সবচেয়ে মজার দিক হলো, রাজুর স্ত্রী, যিনি ব্রাজিল দলের সমর্থক, তিনিও স্বামীর এই কাজে পাশে থেকেছেন পুরো সময়।
রাজুর স্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্রাজিল সমর্থন করি, কিন্তু আমার স্বামীর স্বপ্নকে সবসময় সম্মান করি। ভাস্কর্য তৈরির সময় আমি পাশে ছিলাম, সহযোগিতা করেছি। এখন এত মানুষ এসে দেখছে, সবাই প্রশংসা করছে, এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।’
স্থানীয় যুবক সুবর্ণ মোহন্ত মিথুন বলেন, ‘আমরা সাধারণত এমন জিনিস শহরে দেখি। কিন্তু আমাদের গ্রামের একজন ছেলে এত সুন্দরভাবে মেসির ভাস্কর্য তৈরি করেছে, এটা সত্যিই গর্বের বিষয়। এখন প্রতিদিন মানুষ আসছে শুধু এটা দেখার জন্য।’
আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন মেসি জীবন্ত দাঁড়িয়ে আছেন। এত নিখুঁতভাবে তৈরি করা সত্যিই অবাক করার মতো।’
স্থানীয়দের মতে, এই ভাস্কর্য শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, এটি একজন তরুণের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। তারা মনে করেন, যথাযথ সহযোগিতা পেলে রাজু আরও বড় পরিসরে নিজের প্রতিভা তুলে ধরতে পারবেন।
বর্তমানে রাজুর বাড়ি এখন যেন ছোট্ট এক উৎসবস্থলে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে, ফুটবলপ্রেমী মানুষ এসে ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, হাসছেন, আর নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।
ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর শিল্পের প্রতি নিবেদনের এই অনন্য মিশ্রণ এখন গোবিন্দগঞ্জের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো গাইবান্ধাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
টিজে/এসএন