বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ কি রাঙাতে পারবেন হলান্ড?
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৬ এএম | ১৭ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল (১৭ জুন) মাঠে নামছে ইরাক ও নরওয়ে। পরের রাউন্ডে উঠতে দুদলের জন্যই ম্যাচটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়।
দুদলের জন্যই ম্যাচটি নিজেদের ফিরে পাওয়ার মঞ্চ। দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপে ফিরেছে এই ম্যাচের দুদল। ইরাক বিশ্বকাপ খেলছে সুদীর্ঘ ৪২ বছর পর, নরওয়ের অপেক্ষা ২৮ বছরের। তাই দুদলই যে একটুও ছাড় দিয়ে কথা বলবে না, সেটা আন্দাজ করাই যায়।
কোচ স্টেল সোলবাকেনের অধীনে নরওয়ে এবার রূপকথার মতো এক বাছাইপর্ব পার করে মূল মঞ্চে পা রেখেছে। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে নিজেদের ৮টি ম্যাচের সবকটিতে জিতে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছিল তারা। ওই ৮ ম্যাচে রেকর্ড ৩৭টি গোল করার বিপরীতে তারা হজম করেছিল মাত্র ৫টি গোল! ম্যাচ প্রতি গড়ে ৪.৬টি গোল করে যে কোনো ইউরোপীয় দেশের মধ্যে এক ক্যাম্পেইনে সর্বোচ্চ গড় গোলের নতুন ইতিহাস লিখেছে ভাইকিংরা। এই আক্রমণের মূল কাণ্ডারি ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হল্যান্ড, যিনি বাছাইপর্বে একাই করেছেন ১৬টি গোল।

অন্যদিকে, ইরাকের মূল মঞ্চে আসার পথটি ছিল কণ্টকাকীর্ণ। বাছাইপর্বের মাঝপথে কোচ বরখাস্তের পর অভিজ্ঞ ডাচ-অস্ট্রেলিয়ান গুরু গ্রাহাম আর্নল্ডের হাতে দলের দায়িত্ব সঁপে দেয় তারা। শেষ পর্যন্ত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে টিকিট কাটে ইরাক। তবে টুর্নামেন্টের ঠিক আগে শক্তিশালী স্পেনের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে রেখেছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
ইরাক আজ মাঠে নামছে তাদের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও ১০৩তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাওয়া গোলরক্ষক জালাল হাসানের ওপর ভর করে।রক্ষণভাগে তাকে সুরক্ষা দেবেন জায়েদ তাহসিন এবং রেবিন সুলাকা। মাঝমাঠে বল জোগানোর মূল দায়িত্বে থাকছেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা জিদান ইকবাল এবং আমির আল-আম্মারি; যিনি এশিয়ান বাছাইপর্বের শেষ রাউন্ডে ইরাকের ৫টি গোলের ৩টিতেই সরাসরি অবদান রেখেছিলেন। আর আক্রমণে ভাইকিংদের ডিফেন্স চূর্ণ করতে থাকছেন স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইন এবং আলী আল-হামাদি।
অন্যদিকে, নরওয়ের আক্রমণভাগে আছেন আর্লিং হলান্ড। নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচটা নিজের রঙে রাঙাতে প্রস্তুত ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার। তাকে পাস সরবরাহের জন্য মাঝমাঠে থাকবেন অধিনায়ক ও আর্সেনাল তারকা মার্টিন ওডেগার্ড এবং স্যান্ডার বার্গ এবং ফ্রেডরিক আউরসনেস। দুই উইং দিয়ে গতিঝড় তুলবেন আন্তোনিও নুসা এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের আলেকজান্ডার সরলথ। রক্ষণে ক্রিস্টোফার আয়ারের সঙ্গে দেখা যেতে পারে টরবোয়র্ন হেগেমকে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ইরাকের অতীত ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল তারা।বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচ না জিতে শতভাগ হারের রেকর্ডে কানাডা ও এল সালভাদরের ঠিক পরেই রয়েছে ইরাক। তবে এশিয়ান বাছাইপর্বে ইরাকের করা ১৫টি গোলের ৮টিই এসেছিল সেট-পিস থেকে। ফলে নরওয়েরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়ে নরওয়ে। পরের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল তারা।
এমআর/টিকে