বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে রাতে মুখোমুখি সেনেগাল ও ইরাক
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২২ পিএম | ২৬ জুন, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর লড়াই এখন চূড়ান্ত অগ্নিগর্ভ। টানা দুই পরাজয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সেনেগাল ও ইরাক, উভয় দলেরই।শুক্রবার রাত ১টায় বিএমও ফিল্ডে মুখোমুখি লড়াইয়ে শুধু জয়ই নয়, বরং শেষ ৩২ এ ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য উভয় দলকেই লড়তে হবে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য। গ্রুপ পর্বের এই চূড়ান্ত রাউন্ডে যে দল হারবে, তাদের জন্য বিশ্বকাপের দুয়ার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
সেনেগালের জন্য এবারের বিশ্বকাপটা ছিল প্রত্যাশার চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক। ফ্রান্স ও নরওয়ের বিপক্ষে ডিফেন্সিভ ভুলগুলো তাদের নকআউটের দৌড় থেকে অনেকটা ছিটকে দিয়েছে। অন্যদিকে, ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাকের অবস্থাও তথৈবচ। রক্ষণভাগের দুর্বলতায় ৭টি গোল হজম করা গ্রাহাম আর্নল্ডের শিষ্যরা এখনো এই টুর্নামেন্টে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি। তবে, সেনেগালের নড়বড়ে রক্ষণভাগ দেখে ইরাক শিবিরে কিছুটা হলেও আশার আলো জ্বলছে, তাদের বিশ্বাস, এই দুর্বলতাকে পুঁজি করেই হয়তো গোল উৎসব করা সম্ভব।

লড়াইয়ের ঠিক আগে সেনেগাল শিবিরে বড় দুঃসংবাদ, ইনজুরির কারণে গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডির খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তার জায়গায় দেখা যেতে পারে ইয়েভ্যান দিউফকে। তবে রক্ষণভাগের সেনাপতি কালিদু কৌলিবালির ওপর কোচ পাপে থিয়াও এখনো আস্থা রাখছেন।আক্রমণভাগে সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন এবং ইসমাইলা সার থাকছেন প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হিসেবে।
অন্যদিকে, ইরাকের প্রধান চিন্তার কারণ তাদের গোলমেশিন আয়মেন হুসেইন। ফ্রান্সের বিপক্ষে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তার উপস্থিতি নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৮ গোল করা হুসেইন না থাকলে ইরাকের আক্রমণভাগ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।সেক্ষেত্রে মোহনদ আলী বা আলী আল-হামাদির ওপরই ভরসা রাখতে হবে ইরাককে। মাঝমাঠে জাইদান ইকবাল ও আমীর আল-আম্মারিকে সেনেগালের শারীরিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, যা তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষার চেয়ে কম নয়।
পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলই এবারের বিশ্বকাপে রক্ষণাত্মকভাবে অত্যন্ত ভঙ্গুর। সেনেগাল দুই ম্যাচে ৬টি এবং ইরাক ৭টি গোল হজম করেছে।ইরাকের হয়ে এ পর্যন্ত একমাত্র গোলটি করেছেন আয়মেন হুসেইন। সেনেগালের জন্য সমীকরণটা খুব সহজ, ইরাককে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে এবং এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য গ্রুপের দিকে, যাতে ‘সেরা তৃতীয় দল’ হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেয়া যায়।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং শারীরিক সক্ষমতায় সেনেগাল ইরাকের চেয়ে বেশ এগিয়ে। ইরাক হয়তো সেনেগালের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোল পেয়ে যেতে পারে, কিন্তু সাদিও মানেদের আক্রমণাত্মক শক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে হবে তাদের। বিশ্বকাপের মঞ্চে ইরাকের রূপকথার যাত্রা হয়তো এখানেই থমকে যাবে। ম্যাচের সম্ভাব্য ফল ৩-১ ব্যবধানে সেনেগালের জয়, যা তাদের লড়াইয়ে টিকে থাকার শেষ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখবে। এখন দেখার বিষয়, বিএমও ফিল্ডের এই উত্তেজনাকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় কোন সিংহের দল!
এমআর/টিকে