© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তারিক তাফু আর নেই

শেয়ার করুন:
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তারিক তাফু আর নেই

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩০ পিএম | ২৬ জুন, ২০২৬
পাকিস্তানের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি লোকসংগীতশিল্পী তারিক তাফু আর নেই। ‘লাহোর লাহোর আয়ে’ গানের মাধ্যমে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই শিল্পী গত সোমবার (২৩ জুন) লাহোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তার মৃত্যুতে পাকিস্তানের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডেইলি পাকিস্তানসহ একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারিক তাফুকে লাহোরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি তীব্র পেটব্যথায় ভুগছিলেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিছু প্রতিবেদনে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগীত ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া তারিক তাফু ছিলেন কিংবদন্তি তবলাবাদক উস্তাদ তাফুর ছেলে। তিনি প্রখ্যাত গজলশিল্পী উস্তাদ গুলাম আলীর জামাতাও ছিলেন। পারিবারিক সংগীতধারার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি পাঞ্জাবি লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০০৪ সালে প্রকাশিত তার ‘লাহোর লাহোর আয়ে’ গানটি পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গানটি শুধু একটি হিট সংগীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সময়ের সঙ্গে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশে পরিণত হয়। প্রাণবন্ত পরিবেশনা ও লোকজ সুরের কারণে এই গানের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিপুল পরিচিতি পান তারিক তাফু।

মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে বাবা দিবস উপলক্ষে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন এই শিল্পী। সেখানে প্রয়াত বাবা ও দাদাকে স্মরণ করে তিনি লিখেছিলেন, ‘তোমাদের ছাড়া জীবন কিছুই নয়।’ পোস্টটির সঙ্গে পরিবারের তিন প্রজন্মের কয়েকটি পুরোনো ছবিও শেয়ার করেছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে পাকিস্তানের লোকসংগীতকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তাকে ‘প্রাইড অব পাকিস্তান’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন শিল্পী ও ভক্তরা।

ব্যক্তিগত জীবনে তারিক তাফু স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে রেখে গেছেন। লাহোরের ইকবাল টাউন এলাকার শাহেনশাহ কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে পাকিস্তানের সংগীতাঙ্গন হারাল এক জনপ্রিয় কণ্ঠ, যার গান বহু বছর ধরে শ্রোতাদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।

এসএ/টিকে

মন্তব্য করুন