উড়তে থাকা বাংলাদেশকে হতাশায় মোড়ানো দিন উপহার দিল জিম্বাবুয়ে
ছবি: সংগৃহীত
১০:২৫ পিএম | ২৮ জুন, ২০২৬
টানা চার টেস্ট জিতে উড়তে থাকা বাংলাদেশকে মাটিতে নামিয়ে আনল জিম্বাবুয়ে। হারারে টেস্টের প্রথম দিনটি ভুলে যেতে চাইবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।
বাজে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ছিল না কোনো ধার।
সব মিলিয়ে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটির পুরো নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের হাতে।
বাংলাদেশকে ১৪০ রানে অলআউট করে দিনশেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৬ রান। ৪ রান পিছিয়ে থেকে সোমবার দ্বিতীয় দিন শুরু করবে স্বাগতিকরা।
পাঁচ বছর পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে একমাত্র টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১৪০ রানেই অলআউট হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করে ব্যাটিংয়েও দাপট দেখায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের একমাত্র উইকেটের পতনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৬ ওভার পর্যন্ত।
১৭তম ওভারের প্রথম বলে খালেদ আহমেদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন বেন কারান। দলীয় ৮৯ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর বাকি সময়টাতে বাংলাদেশের বোলাররা আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। কারানের ব্যাট থেকে আসে ৪২ রানের ইনিংস।
দ্বিতীয় উইকেটে ব্রেন্ডন টেলর ও ইনোসেন্ট কাইয়া মিলে ৪৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। কাইয়া ৭৬ রানে এবং টেলর ১৭ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম দিন শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৬ রান। ৪ রান পিছিয়ে থেকে সোমবার দ্বিতীয় দিন শুরু করবে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের যা অবস্থা, তাতে বড় সংগ্রহের দিকেই এগোচ্ছে জিম্বাবুয়ে। সোমবার প্রথম সেশনে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামাতে না পারলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে।
হারারে টেস্টে সাত ব্যাটসম্যান নিয়ে নামলেও স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি সফরকারীরা। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের সপ্তম ওভারে মাহমুদুল হাসান জয় আউট হওয়ার পর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু ১২তম ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের বলে ব্যক্তিগত ২০ রান করে ফেরেন সাদমান। এরপর মুমিনুল ও অধিনায়ক শান্ত ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ভরসা দিচ্ছিলেন।
কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই নিউম্যান নিয়ামহুরির বলে আউট হন মুমিনুল। ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করেন ফিল্ডার। ৮১ বলে ৬০ রানের ইনিংসে ১০টি চার মারেন মুমিনুল। তাঁর বিদায়ের পরই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস।
মুমিনুলের আউটের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। অভিষিক্ত দুই ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয় ও অমিত হাসানও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।
হৃদয় করেন ৩ রান, অমিতের ব্যাট থেকে আসে ৪ রান। মুমিনুলের ৬০ রানের ইনিংস ছাড়া সাদমান করেন ২০ এবং শান্ত ১৯ রান। আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। মাত্র ৪৭.২ ওভারে ১৪০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
জিম্বাবুয়ের হয়ে নিউম্যান নিয়ামহুরি ৬১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। এ ছাড়া ব্র্যাড ইভান্স, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
এফআর/টিএ