এমপি হওয়ার পর এক দিনও জীবনটাকে উপভোগ করতে পারিনি : মাহমুদা মিতু
ছবি: সংগৃহীত
১২:১৭ পিএম | ২৯ জুন, ২০২৬
এমপি হওয়ার পর এই জীবনটাকে আমি এক দিনও উপভোগ করতে পারিনি বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেত্রী ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি বলেছেন, আমি আর আমার প্রিয় গাইনোকোলজির বই খুলে বসি না, এটাই কারণ নয়।
আসল কারণ হলো, এই পথ চলতে গিয়ে কোথাও যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।
রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার একটা সুন্দর, হাসিখুশি জীবন ছিল। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে করতে নিজের অজান্তেই সেই জীবনটা অন্য এক জীবনে রূপ নিল।
আমার এই আইডিটা একসময় এমন ছিল, যেখানে একটু ঘুরে গেলেই মানুষের মন ভালো হয়ে যেত। ইচ্ছামতো সার্কাজম করতাম, মজা করতাম ও আড্ডা দিতাম। তারপর ২০২৪ সাল থেকে সব কিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল। শুধু আমার নয়, আমার মতো আরো অনেকের জীবনই হয়তো বদলে গেছে।
মনের ভারের পাশাপাশি শরীরেও নানা রোগ বেঁধেছে।
মাহমুদা মিতু বলেন, অনেকেই ভাবেন, এমপি হয়েছে, কত কিছু পেয়েছে। অথচ সত্যিটা হলো, আমার এমন একটি ক্যারিয়ার, পরিচিতি এবং কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, যা দিয়ে চাইলে আজকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। হয়তো আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।
তিনি বলেন, আমি মাথা না নোয়ানো মেয়ে, আজকাল মাথা নোয়াতে হয়, সবার ভালোর জন্য কম্প্রোমাইজ করতে হয়।
এখন আর মন চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারি না। অট্টহাসি দেখলেও বলতে পারি না, একবার ভাবুন, কোথা থেকে কোথায় এসেছেন। একটু মাটির দিকে তাকান, কত বিপ্লবীর রক্তে রাঙা এই মাটি।
ক্ষমতা মানুষকে সব সময় শক্তিশালী করে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংসদে যতবার জুলাই নিয়ে আলোচনা হয়, ততবার মনে হয় ভেতরের সব কিছু চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কান্না পায়। সেই ছেলেগুলোর লাশ চোখে ভাসে; কিন্তু সেই কান্নাটুকু চেপে লুকিয়ে ফেলতে হয়। হেরে যাচ্ছি যে সেটা কাউকে বুঝতে দিতে মন চায় না। ক্ষমতা মানুষকে সব সময় শক্তিশালী করে না, কখনো কখনো সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নিজের স্বাভাবিক হাসি, নিজের স্বাধীনতা আর নিজের সত্তাকে। সেই মূল্যটা যারা দেয়, তারাই জানে এর ভার কতটা।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আজ হয়তো অনেকেই অনুভব করছেন না। কিন্তু সময়ই একদিন এর মূল্য বুঝিয়ে দেবে। দিন শেষে সবচেয়ে বড় আশ্রয় একটাই, আল্লাহ আছেন। তিনি অন্তর্যামী, মানুষের উচ্চারিত শব্দের চেয়েও নীরব দীর্ঘশ্বাস তিনি বেশি জানেন। তিনি সব দেখেন, সব জানেন এবং তার বিচারই সর্বোত্তম।
টিকে/