এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
১২:২০ পিএম | ২৯ জুন, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এবারের বাজেট হবে সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে এবারের বাজেট।’
এবারের বাজেটকে 'জীবনবান্ধব বাজেট' নামকরণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাজেটে এবার অনেক পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারের কারণে বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। এমনকি কোনো সংকটকে অজুহাত বানাতে চায় না সরকার; বরং সফলভাবে মোকাবেলা করতে চায়।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের সময় অত্যন্ত মূল্যবান। এখানে আমরা দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন আমাদের অবশ্যই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের প্রত্যেক মানুষ চায়, সংসদে আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করি।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে অর্থনীতি যে চাপে আছে, তা বুঝতে অর্থনীতিবিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মূলত বাস্তব পরিস্থিতির কারণেই বাজেট বড় হয়েছে। অর্থনীতিকে সুবিধাভোগী মানুষের কবল থেকে বের করে এনে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চায় সরকার।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সময় বিভিন্ন ব্যক্তির স্বার্থে অর্থনীতিকে কুচি কুচি করা হয়েছে। সেখান থেকে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। প্রকল্পে কত টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, সেটা মুখ্য নয়; বরং সেটা মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলছে, তা বিবেচনা করবে সরকার।
বাজেটের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে যতটা সম্ভব স্বস্তি দিতে চায় সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে চাই। এ জন্য নতুন শিল্প স্থাপনের চেষ্টা চলছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ আছে। যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ আছে, তা মওকুফ করা হয়েছে। আলাদা কার্ড দিয়ে প্রবাসীদের প্রাত্যহিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
কারিকুলামে স্পোর্টসকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কৃতি ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করা হবে। তাদের নতুন ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। নতুন কুঁড়িতে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিগত সময়ে এমন দুর্নীতি হয়েছে, যা শুনলে গা শিউরে ওঠে। বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে ১৩টি দেশে ২৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টও সই হয়েছে।
বিগত সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কতিপয় বিদেশি কোম্পানি ও ব্যক্তির স্বার্থে এই খাত পরিচালিত হয়েছে। ভোলায় গ্যাস পাওয়ার কারণে সেখানে নতুন শিল্প পার্ক নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। 'এডুকেশন ফার্স্ট' নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এমনকি সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা কাঠামো পরিবর্তন করতে চাই। যেখানে কর্মমুখী শিক্ষা গুরুত্ব পাবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, ফ্রেঞ্চসহ নতুন ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবে পিছিয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাতে রেকর্ড বরাদ্দ করা হয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ক্যান্সারের ওষুধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রীর দাম কমাতে যতটুকু সম্ভব ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো হবে। কর প্রত্যাহার হলে হার্টের স্টেন্ট বা রিং বসানোর ব্যয় ৫০ শতাংশ কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়াও ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে কর অব্যাহতির সীমা ৪ লাখ টাকা করতে অর্থমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন। একইসঙ্গে সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনে টিন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের সুপারিশও করেছেন তিনি।
কেএন/টিকে