নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে সেনেগালের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২০ এএম | ০২ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচটিতে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনেগালের। তখনো ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে সাদিও মানেরা। কিন্তু শেষ পাঁচ মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের মোড়। রোমেলু লুকাকু ও ইউরি তিলেমান্সের গোলে নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। পরে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে তিলেমান্সের পেনাল্টির গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।
সিটল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের (২ জুলাই) ম্যাচটি ছিল রোমাঞ্চকর ও নাটকীয়তায় পূর্ণ এক লড়াই। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। তৃতীয় মিনিটে জেরেমি ডোকুর নিচু ক্রস সেনেগালের রক্ষণ ক্লিয়ার করে দেয়। এরপর ষষ্ঠ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের কাটব্যাকও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার আটকে দেন। ১১ মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের দারুণ ক্রস পেলেও বক্সে কোনো সতীর্থ না থাকায় সুযোগ নষ্ট হয় সেনেগালের। দুই মিনিট পরই গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় আফ্রিকার দলটি। জ্যাকবসের নিখুঁত ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের হেডে বল ছুঁয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। দিক বদলে যাওয়া বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও গোল করতে পারেননি সার; তার শট সাইড নেটে লাগে।
ক্রমেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সেনেগাল। ১৮ মিনিটে ইদ্রিসা গেইয়ের দূরপাল্লার ভলি সহজেই ধরে ফেলেন কোর্তোয়া। ২৫ মিনিটে প্রাপ্য গোল পেয়ে এগিয়ে যায় সেনেগাল। বাম দিক থেকে সাদিও মানের ভাসানো ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের জোরালো হেড দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে সহজ শটে বল জালে জড়ান হাবিব দিয়ারা।
গোল হজমের পরও ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না বেলজিয়াম। ৩৭ মিনিটে মানের শট রুখে দেন কোর্তোয়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের ২৫ গজ দূরের বাঁকানো শট দারুণ ডাইভে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক ইহসান দিয়াও। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সেনেগাল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চার্লস ডি কেটেলারের বদলে রোমেলু লুকাকুকে নামায় বেলজিয়াম। তবে আক্রমণের ধার ধরে রাখে সেনেগাল। ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আফ্রিকার দলটি। নিজেদের অর্ধ থেকে মুসা নিয়াখাতের দীর্ঘ পাস অসাধারণভাবে বুকে নিয়ন্ত্রণে এনে বেলজিয়ামের রক্ষণকে পেছনে ফেলে ডান পায়ের জোরালো শটে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইসমাইলা সার। দুর্দান্ত এই গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।
এরপর একের পর এক পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় বেলজিয়াম। ৭৮ মিনিটে বদলি নেমে দোদি লুকেবাকিওর বাঁকানো শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৮৫ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও কোর্তোয়ার বাধায় গোল পাননি সাদিও মানে। ৮৬ মিনিটে ম্যাচে ফেরে বেলজিয়াম। দিয়েগো মোরেইরার চাপে বল থমাস মুনিয়ারের কাছে গেলে তিনি ডান দিক থেকে নিচু ক্রস বাড়ান। সামনে থাকা ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে রোমেলু লুকাকু ডান পায়ের প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান কমান।
৮৯ মিনিটে নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। বাম দিক থেকে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের জোরালো ক্রসে বল ধরতে গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক ইহসান দিয়াও। কিন্তু তিনি বলের নাগাল পাননি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ছয় গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে হেডে বল জড়িয়ে দেন ইউরি তিলেমান্স। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বেলজিয়ামের দখলে। ১১৭ মিনিটে আমাদু ওনানার পাস থেকে দিয়েগো মোরেইরার নিচু ক্রস পেয়ে ১০ গজ দূর থেকে লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর ভিএআরের সহায়তায় বক্সের ভেতর ইউরি তিলেমান্সের ওপর ফাউলের সিদ্ধান্ত বদলে ১২০+২ মিনিটে পেনাল্টি পায় বেলজিয়াম।
১২০+৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেন ইউরি তিলেমান্স। চাপের মুহূর্তে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের ওপরের ডান কোণে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগ ছিল না। এই গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি সেনেগাল। ফলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে বেলজিয়াম। ২০১৮ সালে জাপানের বিপক্ষে নকআউটে একইভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের পর বিশ্বকাপে এটি তাদের দ্বিতীয় এমন প্রত্যাবর্তনের কীর্তি।
এমআই/টিএ