‘পঞ্চান্ন বছর সময় পেরিয়েও আমরা দেশের হয়ে উঠতে পারিনি’, দেশ নিয়ে আক্ষেপ কিংবদন্তী আফজাল হোসেনর
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০১ পিএম | ০৪ জুলাই, ২০২৬
দেশের সমসাময়িক নানা ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নিজের ভাবনা তুলে ধরেন কিংবদন্তী অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন। এবার তিনি লিখেছেন বাংলাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা, বিভাজন এবং দেশপ্রেমের সংকট নিয়ে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে আফজাল হোসেন বলেন, প্রায়ই তিনি শুনতে ও দেখতে পান ‘বাংলাদেশ চীনমুখী হয়ে যাচ্ছে’, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানমুখী’, কিংবা ‘বাংলাদেশ ভারতমুখী’— এমন নানা মন্তব্য। এসব বক্তব্য তার কাছে কষ্টদায়ক এবং দেশের প্রতি অসম্মানজনক বলেই মনে হয়।
তিনি লেখেন, “বাংলাদেশকে আমার বাংলাদেশই মনে হয়, মোটেও কোনো দেশমুখী মনে হয় না। মনে হয় না, তার জন্য গর্বিতবোধ করি। দেশ হরেকরকম মানুষের, ভাবনাও বিচিত্র। কিন্তু সব ভাবনায় যদি বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে একদিনও শান্তি নিয়ে ঘরে ফেরা যাবে না।”
মানুষের চিন্তাভাবনাকে একটি ‘রান্নাঘরের’ সঙ্গে তুলনা করে আফজাল হোসেন বলেন, অনেক মানুষের মন যেন সারাবছর শুধু নেতিবাচক মন্তব্য তৈরির জায়গায় পরিণত হয়েছে। সেখানে ইতিবাচকতার চেয়ে সমালোচনাই বেশি প্রাধান্য পায়।

দেশ নিয়ে অযাচিত মন্তব্য অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও, তার কাছে তা বেদনা ও হতাশার কারণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়,“যে দেশ আমার, যে দেশ আত্মার অংশ, তার চরিত্র সম্পর্কে হুট করে কোনো মন্তব্য করে অনেক মনে সুখ শান্তি জোটে কিন্ত বহু জনের কাছে দেশ সম্পর্কে মন্দ মন্তব্য শোনা স্বস্তির নয়। বেদনার, হতাশারও।”
রাজনৈতিক বিভাজনের প্রসঙ্গ টেনে এই গুণী অভিনেতা বলেন,“নদীর থাকে দুটো তীর। রাজনৈতিক দলের কাছে মন বন্ধক দিয়ে রাখা মানুষদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, তারা চেনে জানে এবং বুঝিয়ে বিশ্বাস করাতে চায় নদী হয় এক তীরের।”
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন,“দলকে মনের বারো আনা দিয়ে যারা মাত্র চার আনা প্রেম দেশের জন্য রাখে নিশ্চয়ই তারা দেশের নয়, দলের মানুষ। যারা বারো আনা প্রেমের পাল্লায় পড়ে দেশ বিশ্লেষণ, মানুষকে ব্যখ্যা করে, সে ব্যখ্যা একচোখা, একপেশে হওয়ারই কথা।”
স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়েও আমরা প্রকৃত অর্থে ‘দেশের হয়ে উঠতে পারিনি’ বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন আফজাল হোসেন।
পোস্টের শেষদিকে তিনি লেখেন, “পঞ্চান্ন বছর সময় পেয়ে আমরা দেশের হয়ে উঠতে পারিনি। দেশ তা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে না। যখন দেশকে অন্য দেশমুখী বলে নিজেদের কাতরতা প্রকাশ করি দেশ তখন হাসে। হাসে আর মনে মনে বলে, কবে মানুষ হবি? তোদের পূর্বপুরুষরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছে, দেশ পেয়েছিস “ফ্রি”তে তাই মায়া জন্মায়নি। দেশকে মনে করিস ভাড়া বাসা। তোরা যেদিন দেশকে নিজের বলে ভাবতে পারবি, দেশ নিয়ে এতো অনুযোগ, অভাব অভিযোগ থাকবে না।”
এমআই/টিকে