© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় বাবার জানাজায় যোগ দিতে দেওয়া হয়নি মুজতাবা খামেনিকে: নিউ ইয়র্ক টাইমস

শেয়ার করুন:
গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় বাবার জানাজায় যোগ দিতে দেওয়া হয়নি মুজতাবা খামেনিকে: নিউ ইয়র্ক টাইমস

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:১০ পিএম | ০৪ জুলাই, ২০২৬
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনিকে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির জানাজায় সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মুজতাবা খামেনি। ইসরায়েল তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে নিষেধ করা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রথম দিন যে বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, সেই হামলায় মুজতাবা খামেনিও আহত হন। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে শুরু হয়েছে আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগানের পাশাপাশি ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ ধ্বনিও শোনা যায়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো আলি খামেনির কফিনের ওপর রাখা হয়েছে তার কালো পাগড়ি। একই মঞ্চে তার নিহত পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনও রাখা হয়। কালো রঙের বিশাল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয় মক্কার পবিত্র কাবা শরিফের আদলে।

মোসাল্লার বিশাল প্রাঙ্গণে হাজারো শোকাহত মানুষ জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা এবং খামেনির ছবি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে সমর্থকদের 'আমাদের একটাই স্লোগান: প্রতিশোধ, প্রতিশোধ' এবং 'যে আমাদের ইমামকে হত্যা করেছে, তাকে হত্যা করবো' স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

প্রচণ্ড গরমে শোকাহত মানুষের স্বস্তির জন্য ভবনের ছাদ থেকে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও করা হয়। আগামী রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত খামেনির কফিন মোসাল্লায় রাখা হবে। এরপর তা ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করার কথা রয়েছে।

শেষ বিদায়ের কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম নিশ্চিত করতে সরকার পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে, খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা স্থগিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা ভালো মানুষ বলেই তাদের শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি।'

সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, 'আমরা ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করেছি। এখন তারা সমঝোতা করতে খুবই আগ্রহী।'

অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দফতরের প্রধান আলি আবদুল্লাহি শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানের সময় কোনো ধরনের ‘ভুল হিসাব’ করলে তার জবাবে কঠোর ও দুঃখজনক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, মুজতাবা খামেনিকে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে জানাজায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি এবং তিনি আহত হয়েছেন—এ দুই দাবির স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে এবং ইরানের কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এমআই/টিকে



মন্তব্য করুন