© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বলিউডে নায়িকা হিসেবে বৈষম্য ও অবহেলার অভিজ্ঞতা জানালেন কৃতি শ্যানন

শেয়ার করুন:
বলিউডে নায়িকা হিসেবে বৈষম্য ও অবহেলার অভিজ্ঞতা জানালেন কৃতি শ্যানন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:২৩ পিএম | ০৫ জুলাই, ২০২৬
বলিউডে এক দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও নায়িকা হিসেবে বৈষম্য ও অবহেলার অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেননি কৃতি স্যানন। শুটিং সেটে ছোট রুম ও সাধারণ গাড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে সিনেমার প্রচারণায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে আড়ালে রাখা—এমন নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা এবার প্রকাশ্যে এনেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী।

এক সাক্ষাৎকারে কৃতি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রগুলোকে কেবল নায়কের প্রেমিকা হিসেবেই উপস্থাপন করা হতো। চরিত্রটির নিজস্ব পরিচয়, পেশা, পরিবার বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে খুব একটা ভাবা হতো না। তাঁর ভাষায়, এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অধিকাংশ মূলধারার সিনেমা এখনো পুরুষকেন্দ্রিক।



শুটিং সেটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কৃতি বলেন, তিনি সব সময় পরিচালককে বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন, কারণ অভিনয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ তাঁর ছিল না। কিন্তু একই প্রশ্ন কোনো পুরুষ অভিনয়শিল্পী করলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও তিনি প্রশ্ন তুললে অনেক সময় বলা হতো, তিনি নাকি বিষয়টি অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করছেন।

কৃতির ভাষায়, “একজন পুরুষ অভিনেতা প্রশ্ন করলে বলা হতো, তিনি চরিত্রে খুব মনোযোগী। কিন্তু আমি একই কথা বললে শুনতে হতো—তুমি বিষয়টি নিয়ে বেশি ভাবছ।”

তিনি আরও বলেন, শুটিং ইউনিটে নারী ও পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে আচরণেও স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। অনেক সময় পুরুষ সহ-অভিনেতাকে বড় রুম ও উন্নত গাড়ি দেওয়া হলেও নারী অভিনয়শিল্পীদের জন্য থাকত তুলনামূলক ছোট রুম ও সাধারণ গাড়ি।

কৃতি বলেন, “রুম বা গাড়ি আমার কাছে বড় বিষয় নয়। কিন্তু আমাকে যেন কম গুরুত্বপূর্ণ মনে না করানো হয়।”

শুধু শুটিং নয়, সিনেমার প্রচারণাতেও বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, একটি ছবির প্রচারণার সময় পুরুষ সহ-অভিনেতাই ঠিক করতেন তিনি কোন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আর কোনটিতে নেবেন না। বিষয়টি তাঁর কাছে অসম্মানজনক মনে হওয়ায় তিনি অনেক প্রচারণামূলক কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। পরে পরিচালকের অনুরোধে কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও বেশির ভাগ প্রচারণা এড়িয়ে যান।

কৃতি মনে করেন, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। এখন নারী অভিনয়শিল্পীরা নিজেদের অবস্থান ও অধিকার নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। তিনি বলেন, “আমি যদি নিজের জন্য দাঁড়াতে না পারি, তাহলে এই বৈষম্য আমাকে দিনের পর দিন কষ্ট দেয়। তাই একসময় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো শুরু করি।”

২০১৪ সালে তেলুগু সিনেমা ‘১: নেনোক্কাডিনে’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় কৃতি স্যাননের। একই বছর ‘হিরোপন্তি’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর ‘দিলওয়ালে’, ‘রাবতা’, ‘বেরেলি কি বরফি’, ‘লুকা ছুপি’, ‘হাউসফুল ৪’, ‘পানিপথ’, ‘মিমি’, ‘বচ্চন পাণ্ডে’, ‘ভেড়িয়া’, ‘শেহজাদা’, ‘আদিপুরুষ’, ‘গণপথ’ এবং ‘তেরি বাতোঁ মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’-সহ একাধিক আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ককটেল ২’-এ তাঁর অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে এবং চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত হিন্দি সিনেমায় পরিণত হয়েছে। এই সাফল্যের মধ্যেই বলিউডে নারী অভিনয়শিল্পীদের প্রতি বৈষম্যের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কৃতি স্যানন।

উল্লেখ্য, ‘মিমি’ চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য কৃতি স্যানন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন