বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদিবাদী রাষ্ট্রপ্রধান দাবি আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্টের
ছবি: সংগৃহীত
০২:২৭ পিএম | ০৯ জুলাই, ২০২৬
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হাভিয়ের মিলেই নিজেকে "বিশ্বের সবচেয়ে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রপতি" হিসেবে দাবি করে ইসরায়েল এবং ইহুদি জনগণের প্রতি তাঁর অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নিউইয়র্কের ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত তাঁর দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতিগত অবস্থান নিয়ে সমালোচনাকারী রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের কড়া জবাব দিয়েছিলেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে ইসরায়েলপন্থী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।
ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকচিহ্ণ খচিত পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে মিলেই তাঁর ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের পেছনের আদর্শিক ভিত্তি তুলে ধরেন। নিজের অবস্থান ব্যক্ত করার আগে তিনি স্বাধীনতাবাদী তাত্ত্বিক হান্স-হারমান হোপের প্রসঙ্গ টেনে শ্রোতাদের বলেন যে, তিনি ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক হওয়ায় হোপ তাঁর ওপর বিরক্ত। মিলেইর এই ঘোষণার পর উপস্থিত জনতা বিপুল করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানায়, যা ইহুদি রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর গভীর আদর্শিক ও আধ্যাত্মিক সংযোগকে আরও সুদৃঢ় করে।

ইসরায়েলের প্রতি নিছক রাজনৈতিক সমর্থনের বাইরে গিয়ে মিলেই তাঁর ভাষণে নিজস্ব দার্শনিক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির গভীরে আলোকপাত করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির মতো পাশ্চাত্য সভ্যতার মূল নীতিগুলোকে ইহুদি ধর্মগ্রন্থ তোরাহ এবং দশ আজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, স্বাধীনতার ধারণাটি বাইবেলের যাত্রাপুস্তকের বর্ণনার সাথে গভীরভাবে জড়িত। প্রথম আজ্ঞার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তা মিশর থেকে বের করে আনার মাধ্যমেই মূলত স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তির অধিকার সুনিশ্চিত করেছেন।
একজন নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী নেতা হিসেবে পরিচিত মিলেই দীর্ঘদিন ধরে ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন এবং প্রায়শই রাব্বিদের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বাইবেলীয় নীতিগুলো তাঁর কাছে পরম সত্য। আধুনিক দার্শনিক ধারার নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ভুত বস্তুনিষ্ঠ নৈতিক সত্যের পক্ষে যুক্তি দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পবিত্র মূল্যবোধগুলো অপরিবর্তনীয় এবং এগুলো নিয়ে কোনো আপোস চলে না, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই পাশ্চাত্য সভ্যতার কীর্তি নির্মিত হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হাভিয়ের মিলেই আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করা। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তিনি ইসরায়েল সফর করেন, যেখানে তিনি পবিত্র ওয়েস্টার্ন ওয়ালে প্রার্থনা করেন এবং শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া, তিনি আর্জেন্টিনার দূতাবাসকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যা ইসরায়েল ও ইহুদি জনগণের প্রতি তাঁর এই দৃঢ় সমর্থনেরই চূড়ান্ত প্রতিফলন।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
আরআই/এসএন