খামেনির দাফনের দিনেই ইরানে মার্কিন হামলা, জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি গার্ডসের
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৮ এএম | ১০ জুলাই, ২০২৬
নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার মাঝেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে 'চরম জবাব' দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস।
সপ্তাহব্যাপী জানাজা ও শোক মিছিল শেষে মাশহাদের একটি মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সমাহিত করার সময়ই এই হামলার ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকাসহ কোনারাক, চোগাদাক এবং বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। বুশেহরের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক স্থাপনাটির সীমানা এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালায়নি।
বিস্ফোরণের জেরে বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেম, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে মার্কিন হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনী। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপের 'চরম জবাব' দেওয়া হবে। গার্ডসের দাবি, প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের প্রায় ৫০ শতাংশে ফিরে এসেছে এবং শুধুমাত্র তেহরান কর্তৃক নির্ধারিত পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি কাতারি ও সৌদি জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেস্তে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে 'শেষ' বলে ঘোষণা করেছেন।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন মজুত কেন্দ্রসহ ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে কড়া বার্তা দিয়ে লিখেছেন, 'গতকাল ইরানের জাহাজ বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এটি করা হয়েছে। এমনটা আবার ঘটলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে!'
এই সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে কাতার, তুরস্ক ও ওমানের মতো দেশগুলো জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
কেএন/এসএন