জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার ৪৫ তম জন্মদিন আজ
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৮ পিএম | ১১ জুলাই, ২০২৬
আজ (১১ জুলাই) বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমার জন্মদিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করা এই তারকা আজ ৪৫ বছরে পা রাখলেন। প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি নিজেকে দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সময় যতই এগিয়েছে, পূর্ণিমার জনপ্রিয়তা যেন ততই বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নতুন কোনো ছবি প্রকাশ পেলেই ভক্তদের একই মন্তব্য—বয়স যেন তাঁর কাছে কেবলই একটি সংখ্যা। সৌন্দর্য, তারুণ্যদীপ্ত উপস্থিতি এবং সাবলীল ব্যক্তিত্বে এখনও দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন তিনি।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় পূর্ণিমার। ১৯৯৮ সালে পরিচালক জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজর বিপরীতে নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
প্রায় ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় ৮০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা। তবে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার মনের মাঝে তুমি তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৫টি সিনেমায় রিয়াজের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া মান্না, শাকিব খান, ফেরদৌস, আমিন খান, রুবেল, কাজী মারুফ এবং আরিফিন শুভসহ দেশের প্রায় সব শীর্ষ নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন।
বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর কাজেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন পূর্ণিমা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘সুভা’ ও ‘শাস্তি’, এবং রাবেয়া খাতুনের ‘মেঘের পরে মেঘ’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

শুধু বড় পর্দাতেই নয়, উপস্থাপক হিসেবেও নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পূর্ণিমা। পাশাপাশি ছোট পর্দায়ও কাজ করেছেন তিনি। জাহিদ হাসান পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘লাল নীল বেগুনী’-তে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ধারা, এসেছে নতুন প্রজন্মের তারকা। কিন্তু পূর্ণিমার আবেদন, জনপ্রিয়তা কিংবা দর্শকের ভালোবাসা এতটুকুও কমেনি। বরং নিজেকে সময়োপযোগী করে উপস্থাপন করে এখনও তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম চিরসবুজ ও প্রিয় মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
এসএ/টিএ