ঢাকাই সিনেমার ‘হাসির রাজা’ দিলদারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৫ এএম | ১৩ জুলাই, ২০২৬
সিনেমা হল থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে নিপুণ অভিনয় দক্ষতায় বিনোদনের খোরাক জোগানো ঢাকাই চলচ্চিত্রের গর্বিত এক অধ্যায় দিলদার। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই ৫৮ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কোটি কোটি ভক্ত ও দর্শককে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে যাত্রা করেন কিংবদন্তি এই কৌতুক অভিনেতা। মৃত্যুর পর রাজধানীর ডেমরার সানারপাড়ে পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয় তাকে।
দিলদারের জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামে। শিক্ষাজীবনে এসএসসি পাসের পর তিনি প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার ইতি টানেন। ব্যক্তিগত জীবনে দিলদারের স্ত্রীর নাম রোকেয়া বেগম। এই দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান।
ঢাকাই চলচ্চিত্রে দিলদারের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে। তবে তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হলো ১৯৭৫ সালের 'কেন এমন হয়'। এই ছবির মাধ্যমেই রূপালি পর্দায় তার আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে নিজ দক্ষতায় তিনি হয়ে ওঠেন চলচ্চিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌতুক অভিনেতা।

দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে পৌঁছেছিল যে, তাকে কেন্দ্র করে ছবির কাহিনি পর্যন্ত লেখা হতো! পরিচালকরা অনেক সময় শুধু তার জন্যই আলাদাভাবে স্ক্রিপ্ট তৈরি করতেন। কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়লেও তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে তাকে মূল নায়ক করে নির্মাণ করা হয়েছিল 'আব্দুল্লাহ' নামের একটি সুপারহিট চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৩ সালে 'তুমি শুধু আমার' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি 'সেরা কৌতুক অভিনেতা' হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের বিনোদিত করেছেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- বেদের মেয়ে জোসনা (১৯৮৯), বিক্ষোভ (১৯৯৪), অন্তরে অন্তরে (১৯৯৪), কন্যাদান (১৯৯৫), চাওয়া থেকে পাওয়া (১৯৯৬), সুন্দর আলী জীবন সংসার (১৯৯৬), স্বপ্নের নায়ক (১৯৯৭), খাইরুন সুন্দরী (২০০২) ইত্যাদি।
কেএন/এসএন