‘মান্নাত’ নিয়ে আইনি জটিলতার স্বস্তি পেলেন শাহরুখ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪৩ পিএম | ১৪ জুলাই, ২০২৬
বলিউড বাদশা শাহরুখ খান ও তার স্ত্রী গৌরী খানের বিলাসবহুল বাংলো ‘মান্নাত’-এর সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজের আইনি বাধা অবশেষে দূর হলো। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত এই সমুদ্রমুখী বাংলোটির সংস্কার কাজের অনুমোদনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন মেনে যে কেউ নিজের বাড়ি সংস্কার বা পরিবর্তন করতেই পারেন।
এর আগে মুম্বাইয়ের এক বাসিন্দা অভিযোগ তুলেছিলেন যে, মান্নাতের এই সম্প্রসারণ প্রকল্পে পরিবেশগত বিধিমালা ও প্রয়োজনীয় সংবিধিবদ্ধ অনুমোদন সঠিকভাবে মেনে করা হয়নি। আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শোয়েব আলম আদালতে যুক্তি দেখান, পাঁচ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক, যা এই ক্ষেত্রে লঙ্ঘন করা হয়েছে। তবে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি একটি ব্যক্তিগত বাসস্থান এবং এর বাসিন্দারা আইন মেনে যেকোনো পরিবর্তন করতেই পারেন। শুনানির একপর্যায়ে আবেদনকারীর আইনজীবী মামলাটি ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে (এনজিটি) পাঠানোর অনুরোধ করলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। বেঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো ব্যক্তির তারকা খ্যাতি বা জনপ্রিয়তার দ্বারা আদালত প্রভাবিত নয়, বরং আইন অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালও মান্নাতের পরিবেশ ও উপকূলীয় অনুমোদনকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। এনজিটি তাদের আদেশে বলেছিল, এই প্রকল্প পরিবেশগত সব নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সন্তোষ দৌন্দকর নামের এক সামাজিক কর্মী এনজিটিতে এই আপিল করেছিলেন, যেখানে মহারাষ্ট্র উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া ছাড়পত্রকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। মূলত মান্নাতের মূল ভবনের পেছনের একটি ছয় তলা অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আরও দুটি তলা যুক্ত করার প্রস্তাব করেছিলেন গৌরী খান, যা নিয়ে এই আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর মান্নাতের সম্প্রসারণ কাজের সমস্ত পথ এখন পুরোপুরি পরিষ্কার।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএ/টিএ