এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৭ পিএম | ১৬ জুলাই, ২০২৬
লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে কাতার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে আবারও শিরোপা এনে দেন তিনি।
২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে যে ট্রফিতে চুম্বন করেছিলেন মেসি, চার বছর পর নিউইয়র্কে আবারও সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজরা। দুই গোলের পেছনেই ছিল মেসির অবদান, দুটি অ্যাসিস্টই এসেছে তার পা থেকে। আর এই স্মরণীয় জয়টি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সি।আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসি জানান, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও বিশেষ এক উপহার।

মেসি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে এই ম্যাচ উপভোগ করছেন। আজ তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি। এটাও তার জন্য একটি উপহার।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই জয় অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। পরে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।
চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে হারাল আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন শান্ত ও ধৈর্যশীল। মাঝমাঠে নেমে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তৈরি করেছেন দুই গোলের সুযোগ।
প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস দিয়ে সমতাসূচক গোলের পথ খুলে দেন। পরে লাউতারো মার্তিনেজের উদ্দেশে ভাসানো ক্রস থেকে আসে জয়সূচক হেড। এখন শিরোপার পথে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন।
আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।
তবে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়কে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন মেসি। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় অর্জনের সঙ্গে ম্যারাডোনার স্মৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকবে।
এমআর/টিকে