ছয় মিনিট বাকি থাকতেই শেষ বাঁশি, হতবাক ফ্রান্স, উচ্ছ্বাস আর্জেন্টিনার!
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১২ পিএম | ১৮ জুলাই, ২০২৬
১৯৩০ সাল, উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ চলছে। নতুন এই প্রতিযোগিতা তখনো বিশ্বজুড়ে তেমন পরিচিত হয়ে ওঠেনি। কিন্তু টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বেই ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত রেফারিং ভুল হিসেবে স্মরণ করা হয়।
গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে জমে ওঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। দীর্ঘ সময় কোনো দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। অবশেষে ম্যাচের ৮১তম মিনিটে লুইস মন্টির নেওয়া দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে ফ্রান্স।

ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। ফ্রান্সের উইঙ্গার মার্সেল ল্যাঙ্গিলার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বল নিয়ে এগিয়ে যান। তার সামনে তখন কেবল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক। পরিস্থিতি এমন ছিল যে গোল হওয়াটা যেন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে অবিশ্বাস্য ঘটনা। ব্রাজিলের রেফারি গিলবার্তো দে আলমিদা রেগো ভুলবশত শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন। অথচ নির্ধারিত সময়ের তখনো ছয় মিনিট বাকি ছিল। নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনাময় মুহূর্তে খেলা থেমে যাওয়ায় হতবাক হয়ে যান ফরাসি খেলোয়াড়রা। মাঠেই শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ ও বিশৃঙ্খলা।
কিছুক্ষণ পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন রেফারি। এরপর আবার খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেকেই ড্রেসিংরুমে চলে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সবাইকে ফিরিয়ে এনে বাকি সময়ের খেলা শেষ করা হলেও ফ্রান্স আর সেই সুবর্ণ সুযোগ ফিরে পায়নি। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের একেবারে প্রথম আসরেই এমন রেফারিং ভুল ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম, প্রযুক্তি ও ম্যাচ পরিচালনায় বড় পরিবর্তন এলেও মন্টেভিডিওর সেই ভুল শেষ বাঁশির ঘটনা আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় বিতর্ক হয়ে রয়েছে।
টিকে/