© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এখনো সময় আছে ঠিক হয়ে যান: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শেয়ার করুন:
এখনো সময় আছে ঠিক হয়ে যান: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২২ পিএম | ১৯ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, এখনো সময় আছে ঠিক হয়ে যান। না হলে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার রেডি করেন।

রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলতলায় এক পথসভায় এ কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আপনি খালেদা জিয়ার সন্তান। আপনি ভারতের আজ্ঞাবহ হয়ে আছেন। আজ ভারত যাচ্ছেন, কাল চীন যাচ্ছেন। জনগণ যদি ইচ্ছা না করে, কোনো দেশ আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না। তাই জনগণের মাঝে আসুন।

তিনি বলেন, যে বাংলাদেশে আমরা উপনীত হয়েছি, সেই বাংলাদেশে মানুষ হিসেবে আদর্শ ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আগামীর লড়াইটা কেমন হবে, জুলাই আন্দোলনে সে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন রংপুরের সন্তান আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বাবা অনেক কষ্ট করে তার সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষে আবু সাঈদ যখন একটি চাকরির আশায় পরীক্ষার টেবিলে বসেছিলেন, তখন তিনি দেখেছিলেন, বাংলাদেশে পড়াশোনা করে চাকরি হয় না। চাকরির একমাত্র চাবিকাঠি ছিল ছাত্রলীগ-যুবলীগ। আবার সেই অবস্থা ফিরে এসেছে যুবদল-ছাত্রদলের মাধ্যমে। 

তিনি আরও বলেন, যুবদল-ছাত্রদল বা বিএনপি না করলে চাকরি হয় না। যে আবু সাঈদ নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন, সেই বাংলাদেশ কি আমরা ২০২৬ সালে এসে পেয়েছি? তাই আগামীর বাংলাদেশ নতুন করে সাজাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি ঠিকই, কিন্তু এমন একটি সংবিধান আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, যে সংবিধানে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বীজ রয়েছে। সেই সংবিধান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বলে না। সেই সংবিধান বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারে না। আমরা চেয়েছিলাম শুধু হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ নয়, হাসিনাকাঠামোমুক্ত বাংলাদেশ। যে নিয়মকানুনে শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করতেন, তা এখনো রয়ে গেছে। এরপরও বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার চাইলেও একটি দল সেই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায় না। আমরা সংবিধান সংস্কার চাইনি, আমরা সংবিধান পরিবর্তন চেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, তারা তা মেনে নিতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, তারা বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানীয় সরকারের কাঠামোতে একদলীয় শাসন শুরু করার পাঁয়তারা করছে। আপনারা দেখুন, বাংলাদেশের যতগুলো জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন রয়েছে, প্রতিটিতে প্রশাসক হিসেবে বিএনপির পদধারীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা বলি, ভোটের মাধ্যমে যে প্রতিনিধি আসার কথা, সেটা সরকারের মাধ্যমে হচ্ছে। এটা গণতন্ত্র হতে পারে না। এটা গণতন্ত্রের সঙ্গে যায় না; এটা একদলীয় শাসনতন্ত্রের দিকে যায়।

তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছে আহ্বান জানাই, এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশ করুন। আবু সাঈদ যে উদ্দেশ্যে রক্ত দিয়েছেন, সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। ২০২৪ সালের আগের বাংলাদেশে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে দুর্নীতি, লুটপাট ও অনিয়ম হবে না। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

পথসভায় সারজিস আলম বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন এবং পঞ্চগড় জেলার উন্নয়নে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য গত ছয় মাসে সরকারি বরাদ্দের হিসাব না দেয়ায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীর বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডে যদি ভুল হয়, যদি একজন ব্যক্তিও নির্যাতিত ও নিপীড়িত হন, তাহলে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হবে।

এসএন 

মন্তব্য করুন