আন্দোলনে পুলিশের ভ্যান থামিয়ে ভাইরাল হওয়া কে এই রিয়া আহির?
ছবি: সংগৃহীত
০২:৩৬ পিএম | ২৪ জুলাই, ২০২৬
ভারতের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় মুম্বাইয়েও রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

আর সেই আন্দোলনের মাঝেই পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী ও মডেল রিয়া আহির।
মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই ভ্যানটির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন রিয়া।
তিনি দাবি জানান, আটক শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মুহূর্তেই সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই রাতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রিয়া বলেন, ‘সে রাতে আমি একটানা জেগে ছিলাম। এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাইনি। ২৩শে জুলাই ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত আমি জেগে ছিলাম।
রিয়ার দাবি, পুলিশের কাছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটক করার কোনো বৈধ নির্দেশ ছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম যে ভ্যানে থাকা ওই বাচ্চাদের আটক করার কোনো নির্দেশ তার কাছে আছে কি না, তিনি ইতস্তত করছিলেন। তখনই আমি বুঝলাম যে আমাকে কিছু একটা করতে হবে। আটক হওয়া এক প্রতিবাদকারী মেয়ের হাত ধরে ভ্যানটির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াটা বিপজ্জনক ছিল। তাই আমি সহজাত প্রবৃত্তিতেই ভ্যানটির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ি।
রিয়ার এই পদক্ষেপের পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আশপাশে থাকা আরও অনেক তরুণ-তরুণী তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। তারা একসঙ্গে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রিয়া জানান, সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি শিবাজী পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন দেখতে পান, আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মনে হয়েছিল, অকারণেই তাদের আটক করা হচ্ছে। তাই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই তিনি ভ্যানটির সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
পুলিশের ভ্যান থামিয়ে দেওয়ার সেই ছবি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আকস্মিক এই পরিচিতি প্রসঙ্গে রিয়া বলেন, তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এক ফৌজি পরিবার থেকে এসেছি। আমার বাবা সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন এবং তিনি এই প্রতিবাদে আমার অংশগ্রহণকে পুরোপুরি সমর্থন করেন। আমাদের তরুণদের সাথে যা ঘটছে, তার সাথে তিনি একমত নন।’
প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রিয়া বলেন, ‘আমি কেবল আমার মতামত জানাতে ও আমার অধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছিলাম, এবং সারাদেশে চলমান এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হতে চেয়েছিলাম—শুধু দিল্লি বা মুম্বাইয়ে নয়, সর্বত্র। আমি যা করেছি, তা করতে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছিল, তা হলো এই উপলব্ধি যে পুলিশ যা করছিল তা বেআইনি এবং তা সহ্য করা উচিত নয়।’
নিজেকে আন্দোলনের নায়ক হিসেবে দেখতে নারাজ রিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি কল্পনাতেও ভাবিনি যে আমাকে এমন একজন হিসেবে চিত্রিত করা হবে যিনি একটি পুরো আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী। এই পুরো অভিজ্ঞতা আমাকে সম্মানিত ও বিনয়ী করেছে। মানুষ আমাকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে তুলনা করছে, এবং এটা আমি মেনে নিতে পারি না। তাঁরা বুকে গুলি খেয়েছিলেন। আমি কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামী নই। কিন্তু আমি সেদিন শহীদ হতে প্রস্তুত ছিলাম। এমনকি যদি তারা আমাকে গাড়ি চাপা দিত, তাহলেও আমি খুশি হতাম। ভগত সিং যেমন বলেন, সমাজে যা কিছু ঘটছে তা যদি আপনাকে ক্রুদ্ধ না করে, তবে আপনি ভারতীয় নন।’
ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রামেও ভাইরাল হওয়া ছবিটি শেয়ার করেন রিয়া।
রিয়া আহির পেশায় অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপক ও উদ্যোক্তা। বিনোদন অঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে সরব থাকার জন্যও তিনি পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা। অনলাইনে রিয়া আহির নামে পরিচিত হলেও তাঁর পারিবারিক নাম রিয়া যাদব। তিনি যাদব পরিবারের চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা।