আদালতের রায়ে স্বস্তি পেলেন সালমান খান
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৩ পিএম | ২৮ জুলাই, ২০২৬
‘কালা হরিণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’-এর বিতর্কিত টিজার এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন অনলাইন লিংক অবিলম্বে ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার শুনানিকালে আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানান, প্রাথমিকভাবে দৃষ্ট হয় যে ছবির প্রচারণামূলক উপাদানগুলোতে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার সঙ্গে বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে, যা তার সামাজিক সম্মান ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
চলচ্চিত্রটির মুক্তি, প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপনী কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সালমান খান আবেদন দায়ের করেছিলেন। বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের একক বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে বিচারক ইঙ্গিত দেন যে, ছবিটির প্রযোজক অমিত জানির দেওয়া বিতর্কিত সাক্ষাৎকারগুলোও দ্রুত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে নামিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। আদালত জানান, এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণমূলক নির্দেশনামা পরবর্তী সময়ে জারি করা হবে।
মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতের মৌখিক মন্তব্য ছিল অত্যন্ত কঠোর। প্রচারণার ধরন দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক বলেন, ‘এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির ওপর এসব প্রচারণার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত মন্তব্য করেন, ‘একবার কোনো মানুষের সুনাম ও সম্মান নষ্ট হয়ে গেলে তা আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’ এ ছাড়া বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, ছবিটির প্রচারণামূলক উপাদানগুলোতে অভিনেতাকে বিতর্কিত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘটনার সঙ্গেও সম্পর্কিত করার একটি চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সালমান খানের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরে জানান, প্রযোজকরা ছবিতে সরাসরি অভিনেতার নাম ব্যবহার না করলেও টিজার, পোস্টার এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল উপাদানের মাধ্যমে তাকেই স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছবিতে সালমানের মতো দেখতে একজন অভিনেতাকে ব্যবহার করা হয়েছে, যার হাতে সালমানের বহুল পরিচিত সিগনেচার নীল রঙের ব্রেসলেট পরানো রয়েছে। ফলে সাধারণ দর্শক খুব সহজেই ওই চরিত্রটিকে সালমান খান হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।
আবেদনপত্রে অভিনেতা দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত এই চলচ্চিত্রটি মূলত ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এতে তার সম্পর্কিত ঘটনাগুলোকে সম্পূর্ণ ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তার অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিক সুবিধা হাসিল করতে তার নাম ও পরিচিতিকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আবেদনটিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ছবির প্রচার বাড়াতে এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে প্রযোজক অমিত জানি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও পাবলিক স্টেটমেন্টে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রজেক্টকে হরিণ শিকার মামলা এবং লরেন্স বিষ্ণোইয়ের মতো অপরাধীদের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন।
মূলত ‘কালা হরিণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ নামের এই চলচ্চিত্রটি সালমানের ব্যক্তিগত অধিকার এবং প্রচার স্বত্ব লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগে বলা হয়। আইনজীবীরা আরও দেখান যে, অস্ত্র আইনের মামলায় আদালত কর্তৃক তিনি খালাস পাওয়া সত্ত্বেও ছবির কিছু দৃশ্যে সালমানের মতো দেখতে চরিত্রটিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তিকর বার্তা দেয়। এ ছাড়া চলচ্চিত্রটির বেশ কিছু বিষয়বস্তু এখনো দেশের উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে এই ধরনের স্পর্শকাতর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে চলমান আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে যুক্তি দেওয়া হয়।
সূত্র: এএনআই
এসএ/টিএ