সালমানের খামার বাড়িতে কেউ নিজের ইচ্ছায় ঢুকতে পারলেও, বেরুতে পারেন না: ভগ্নিপতি আয়ুষ
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৪ এএম | ৩০ জুলাই, ২০২৬
বলিউডি অভিনেতা সালমান খানের পানভেলের খামারবাড়ি যেন এক বিস্ময়জগত! পাহাড় ঘেরা জায়গাটিতে দিগন্ত জোড়া চাষবাসের ক্ষেত, বিশাল আকৃতির সুইমিং পুল, ফুল-ফলের গাছগাছালিতে ঘেরা এই বাগান বাড়িতে প্রায়শই বলিউড তারকাদের আসর জমে। মুম্বাই থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে এই বাগানবাড়ি।
ভাইজানের জন্মদিন হোক বা পরিবারের কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান, এই ফার্মহাউসেই সপরিবারে উদযাপন করেন সালমান। এই খামারাড়িতেই সালমানকে হত্যার ছক এঁটেছিলেন তার শত্রু গ্যংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। প্যানভেলে ‘শিশুপাচারের’ মত অপকর্ম হয় এমন অভিযোগও উঠেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এ বার সালমানের খামারবাড়ি নিয়ে মুখে খুললেন তার বোন অর্পিতা খানের স্বামী অভিনেতা আয়ুষ শর্মা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা আয়ুষ বলেন, "পানভেলের খামার বাড়িতে কেউ নিজের ইচ্ছেয় ঢুকতে পারলেও, বেরুতে পারেন না।”
এই কথার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সালমান আজকাল বেশিরভাগ সময় পানভেলের খামারবাড়িতেই থাকে। পরিবারের সদস্যরাও সেখানে যেতে মুখিয়ে থাকে।
“আমরাতো ব্যাগপত্তর গুছিয়ে সবসময়ে তৈরিই থাকি, এই বুঝি ডাক এল! আসলে ভাইজান বরাবরই অতিথি আপ্যায়ন করতে ভালোবাসেন। পানভেলের খামারবাড়িতে যারাই আসেন, তারাই বলিউড সুপারস্টারের অতিথি বৎসল আচরণে মুগ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
“আর তার (সালমান) অ্যাপায়ন পর্ব কতদিন চলবে, সেটাও কেউ বলতে পারে না। তাই সেখান থেকে বের হওয়ার সময় কেউ জানেন না।
“ভাইজানের খামারবাড়িতে ঢোকা যায়, কিন্তু বেরোনোর রাস্তা সহজ নয়!
অভিনেত্রী শেহনাজ গিল জানান, ‘কিসি কা ভাই, কিসি কি জান’ সিনেমার সময়ে সলমনের খামারবাড়িতে কয়েক দিন থেকেছিলেন। ওই খামারবাড়িতে রয়েছে বহু বাইক ও গাড়ি।
শেহনাজ় বলেন, “আমরা বাইক ও এটিভি গাড়িতে করে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতাম। পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ানোর মত জায়গা ওটা নয়।”
বৃক্ষরোপণ ও চাষাবাদ নিয়েও বিশেষ আগ্রহ রয়েছে সালমানের। সালমান ঘোড়ায় চড়ে বেড়ান, ধান চাষ করেন। ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে চাষ করেন।

সালমানকে নিয়ে শেহনাজ় বলেছেন, “সালমান গাছ থেকে ফল পাড়তেন। স্যার খুবই দেশি ভাবনার মানুষ। উনি খুবই কর্মঠ। সারাদিন কৃষকদের মত পরিশ্রম করেন।”
কেবল বলিউডের তারকারাই নয়, ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিংহ ধোনি থেকে দক্ষিণী তারকাদের মধ্যেও অনেকে সেখানে সময় কাটিয়েছেন।
কোভিড মহামারীর প্রথম দিকে মানসিকভাবেভালো থাকার জন্য সালমান কাছের বন্ধুবান্ধব নিয়ে চলে গিয়েছিলেন এই খামারবাড়িতে। সেই কাছের বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। সেখানে গানের মিউজিক ভিডিও, শর্ট ফিল্ম আর নিজের একটা সাক্ষাৎকারের শুটিং সারেন সালমান।
ওই বাগানবাড়িতে একটি বিলাসবহুল পুল, একটি জিম আর বিশাল তিনটি মাঠ আছে। পুলের পাশেই রয়েছে বুদ্ধের মূর্তি। বসে আড্ডা দেওয়ারও জায়গা আছে বেশ কয়েকটা।
১৫০ একর জায়গা নিয়ে সালমানের এই বাগানবাড়িতে রয়েছে ১২টি শোবার ঘর। মাঝেমধ্যে সালমান এখানেই সেরে নেন প্রয়োজনীয় মিটিং। কয়েক বছর আগে এই বাগানবাড়িতেই সাপের কামড়ে আহত হন সালমান।
ছুটি পেলেই সালামান খান নিরিবিলি সময় কাটান এই বাগানবাড়িতে।
এমআই/টিএ