© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে: সারজিস

শেয়ার করুন:
বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে: সারজিস

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:০৫ এএম | ৩১ জুলাই, ২০২৬
বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা স্বৈরাচারের পরে বিএনপি আরেকটা স্বৈরাচার কায়েম করতে চাইছে। তারা আর কোনো দলকে দাঁড়াতে দেবে না। এটা যদি হয়, তাহলে বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে।’

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস আলম এ মন্তব্য করেন। সিলেটের গোলাপগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সিলেটে ফেরার পথে তাকে বহনকারী গাড়িতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কথা বলেন।

এনসিপি নেতাদের ভাষ্য, বেলা পৌনে তিনটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে সভা শেষে সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ি মিলনায়তন এলাকা ত্যাগ করছিল। তখন কয়েকজন ব্যক্তি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তার গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছুড়ে মারেন। এতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়।

পরে পাঁচমাইল এলাকায়ও দ্বিতীয় দফায় হামলা হয়। তখন গাড়িতে থাকা যুবশক্তির সিলেটের সাবেক দপ্তর সম্পাদক তারেক জামিল চোখে আঘাত পান। দুই দফা হামলার ঘটনায় সারজিস আলমসহ এনসিপির নেতা-কর্মীরা ছাত্রদলকে দায়ী করছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে সারজিসসহ অন্যরা সিলেট সার্কিট হাউসে আসেন।

হামলায় চোখে আঘাত পাওয়া নেতাকে দেখিয়ে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরা (বিএনপি) এখন চোখ চায়। শেখ হাসিনা ছিল রক্তপিপাসু। এই তারেক রহমানের ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হচ্ছে চোখপিপাসু। একজনের চোখ হবিগঞ্জে তুলে নিছে, আরেকজনের চোখ নেওয়ার জন্য চোখে বাড়ি (আঘাত) মারছে।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচমাইল জায়গায় রড নিয়া আসছে, চাপাতি নিয়া আসছে। আমাদের কাছে ভিডিও পর্যন্ত আছে। বিএনপির ওই সন্ত্রাসীরা রড-চাপাতি দিয়ে আমাদের গাড়িতে মারছে।’

বিএনপির নেতা-কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমাদের গাড়ির গ্লাসগুলোকে কীভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেই গ্লাসটা ভাঙল, ওই গ্লাস দিয়ে যদি আরেকটা ইটও আসত, অন্য কিছু না, ওই ইটটা লাগলে ওইখানে একজন মানুষ মারাও যেতে পারত। এভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে যে আক্রমণগুলা করছে, এর মধ্য দিয়ে বিএনপি কিংবা তারেক রহমান আমাদের কী বার্তা দিতে চান? তিনি কি চান, বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করে দিক, তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিক?’

এ সময় হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সারজিসের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের একজনও থেকে থাকলে তারা দেখাক। তারা নেতা-কর্মীদের নিয়ে কোনো কথা বললেও বাধা না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। নিহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন; কিন্তু আহত ব্যক্তিদের কারও সঙ্গে দেখা করেননি, সেখান থেকেই ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছেন।

এ সময় এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কথা বলেন। তারা এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে নির্ধারিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

পরে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তারা কানাইঘাট উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িবহর নিয়ে রওনা হন। সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এনসিপির গাড়িবহর জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকা অতিক্রম করছিল।

এনসিপির নেতাদের গাড়িতে হামলার বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, গোলাপগঞ্জে এনসিপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করেছে। ফেরার পথে কে বা কারা ঢিল মেরে গাড়ির কাচ ভেঙে দিয়েছে। এটা বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। তবে বিষয়টি তদন্ত করে যে বা যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনসিপির স্থানীয় নেতারা জানান, কানাইঘাটের পর ওসমানীনগর উপজেলায় জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপি নেতাদের যোগ দেওয়ার কথা আছে। এ ছাড়া আগামীকাল শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

এমআই/টিএ


মন্তব্য করুন