ব্রণ নিয়ে ঘর থেকেও বের হতাম না: সাই পল্লবী
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২৩ পিএম | ০২ আগস্ট, ২০২৬
ভারতীয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে তার অভিনয় প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদল দর্শক তার অভিনয় দক্ষতা, স্বাভাবিক উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করলেও অন্য একটি অংশের দাবি, পৌরাণিক চরিত্র সীতার সঙ্গে তার চেহারা পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে ভাইরাল হয়েছে সাই পল্লবীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি নিজের ব্রণ, ত্বকের সমস্যা, গায়ের রং নিয়ে অনিরাপত্তা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প শেয়ার করেছিলেন, যা এখন আবারও আলোচনায় এসেছে।
‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীতা চরিত্রে সাই পল্লবীকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে। অনেকের মতে, মেকআপনির্ভর নয় এমন স্বাভাবিক সৌন্দর্য এবং শক্তিশালী অভিনয় তাকে এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। তবে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছেন, ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত সীতার রূপের সঙ্গে তার বাহ্যিক চেহারার মিল নেই। যদিও এর জবাবে অসংখ্য দর্শক বলছেন, একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অভিনয় দক্ষতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিতর্কের মধ্যেই আলোচনায় আসে ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া সাই পল্লবীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানান, অভিনয়ে আসার আগে দীর্ঘদিন ব্রণ ও রোসেসিয়া সমস্যায় ভুগেছেন। নিজের চেহারা নিয়ে এতটাই অস্বস্তিতে ছিলেন যে অনেক সময় ঘর থেকে বের হতেও ইচ্ছা করত না।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘প্রেমাম’ ছবির আগে তিনি অসংখ্য ফর্সা হওয়ার ক্রিম ব্যবহার করেছিলেন। মুখে প্রচুর ব্রণ থাকায় মনে হতো মানুষ তার চোখের দিকে নয়, শুধু ব্রণের দিকেই তাকিয়ে থাকে। সেই সময় নিজের চেহারা নিয়ে তিনি ভীষণ মানসিক চাপে ছিলেন।
তবে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘প্রেমাম’ তার জীবন বদলে দেয়। সাই পল্লবী বলেন, দর্শক তাকে ঠিক যেমন ছিলেন, সেভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক নয়, আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। দর্শকদের ভালোবাসাই তাকে নিজের স্বাভাবিক রূপকে গ্রহণ করার সাহস জুগিয়েছে বলেও জানান তিনি।
একই সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবনের শুরু নিয়েও কথা বলেন সাই পল্লবী। তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবেই তামিল চলচ্চিত্রের পরিবর্তে মালয়ালম ছবি ‘প্রেমাম’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কারণ, ছবিটি সফল না হলেও তার পরিচিতদের খুব বেশি জানা থাকবে না বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু মুক্তির পর ছবিটি ব্যাপক সাফল্য পায় এবং রাতারাতি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন তিনি।

গায়ের রং নিয়ে বৈষম্য এবং অবাস্তব সৌন্দর্যচর্চার বিরুদ্ধেও বরাবরই সরব সাই পল্লবী। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ২ কোটি রুপির একটি ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না, যা মানুষের মধ্যে ভুল সৌন্দর্যবোধ বা হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে।
সীতা চরিত্রে তাকে ঘিরে বিতর্ক এখনো অব্যাহত থাকলেও তার এই পুরোনো বক্তব্য নতুন করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকের মতে, নিজের ত্বক, গায়ের রং এবং অসম্পূর্ণতাকে গ্রহণ করার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আজও সমানভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে সমালোচকদের একটি অংশ এখনো মনে করছেন, ‘রামায়ণ’-এ সীতা চরিত্রের জন্য ভিন্ন কাউকে বেছে নেওয়া যেত। ফলে সিনেমাটি মুক্তির আগেই সাই পল্লবীকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্কের শেষ হচ্ছে না।
এসএ/টিএ