ব্রাজিলের ভারতে খেলতে আসা অভাবী পরিবারের বিয়েতে শাহরুখের নাচের মতো: সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৫ পিএম | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
বছরের শেষ দিকে কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সপ্তাহের শুরুতে এমন খবর প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার বিবেকানন্দ যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান পঞ্চম, আর ভারতের ১৩৮তম। দুই দলের সামর্থ্যের ব্যবধান বিশাল। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্রাজিলের তারকাদের উপস্থিতিকে ঘিরে বিপুল দর্শক ও বাণিজ্যিক আয়ও প্রত্যাশা করছে আয়োজকরা।
ভারতের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ ম্যাচ হতে চললেও এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। ভারতের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইউরোপিয়ান ক্লাবে খেলা এই কিংবদন্তির মতে, দেশের ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতায় এমন ম্যাচ আয়োজনের চেয়ে কাঠামোগত উন্নয়নই বেশি জরুরি।

বাইচুং বলেন, 'আমি বলছি না যে ব্রাজিলের আসা উচিত নয়। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অবস্থায় এই ম্যাচ থেকে আমরা কী অর্জন করতে চাইছি? জামশেদপুর এফসি আইএসএল থেকে বাদ পড়েছে, দলগুলো এশিয়ান গেমসে যাচ্ছে না, আর আমাদের ফিফা র্যাঙ্কিং প্রায় ১৪০-এর কাছাকাছি।' ম্যাচের সময় নিয়েও আপত্তি রয়েছে তার। কারণ, একই সময়ে ভারতের জাতীয় দল ফিফা এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি ও সূচি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "তারিখটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। প্রথম সারির দলকে হয়তো পাওয়া যাবে না। তাহলে কি দ্বিতীয় সারির দল ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে?" ভারত আমন্ত্রিত দল হিসেবে ফিফা এশিয়ান কাপে অংশ নেবে। সেখানে পাকিস্তানের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলবে ব্লু টাইগাররা। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনকে যথাযথ সিদ্ধান্ত মনে করছেন না বাইচুং। তার ভাষায়, 'এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতীয় ফুটবলের পুনর্গঠন। বর্তমান বাস্তবতায় ব্রাজিলকে এনে ম্যাচ আয়োজন করা অনেকটা এমন একটি পরিবারের মতো, যারা ঠিকমতো দুবেলা খেতে পারে না, অথচ ছেলের বিয়েতে শাহরুখ খানকে এনে নাচানোর চেষ্টা করছে।'
কেএন/এসএন