© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাংলা সিনেমার ‘রূপবান’ খ্যাত সুজাতার জন্মদিন আজ

শেয়ার করুন:
বাংলা সিনেমার ‘রূপবান’ খ্যাত সুজাতার জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫১ পিএম | ১০ আগস্ট, ২০২৬
ষাটের দশকের বাংলা চলচ্চিত্র তখন সাদাকালো পর্দায় ধীরে ধীরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করছে। সেই সময়েই লাস্যময়ী চেহারা, মায়াবী দৃষ্টি আর নিপুণ অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রে দাপুটে আবির্ভাব ঘটে এক তরুণীর। খুব অল্প সময়েই তিনি জায়গা করে নেন দর্শকের হৃদয়ে। সেই অভিনেত্রীই সুজাতা, যিনি ‘রূপবান’ নামে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আজ ১০ আগস্ট গুণী এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। দীর্ঘ অর্ধশতকের বেশি সময়ের পথচলায় অভিনয় দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন ঢালিউডকে। শুধু অভিনয় নয়, প্রযোজনা ও পরিচালনাতেও রেখেছেন নিজের স্বাক্ষর।

সুজাতার আসল নাম তন্দ্রা মজুমদার। গিরিজানাথ মজুমদার ও বীণা পানি মজুমদারের সন্তান তিনি। কুষ্টিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুজাতার পরিবার পঞ্চাশের দশকের হিন্দু মুসলমান দাঙ্গার সময় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় আসার পর নাটক ও থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। আমজাদ হোসেন, নাজমুল হুদা বাচ্চু ও সালাহউদ্দিনের মতো বরেণ্য নির্মাতাদের নির্দেশনায় মঞ্চে অভিনয় করেন।



এরপর ওবায়দুল হক পরিচালিত ‘দুই দিগন্ত’ চলচ্চিত্রে একটি নৃত্যে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রূপালি পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়। পরে নির্মাতা সালাহউদ্দিন তার নাম তন্দ্রা মজুমদার থেকে সুজাতা রাখেন এবং ‘ধারাপাত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেন। নায়িকা হিসেবে সুজাতার প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মেঘ ভাঙা রোদ’। কাজী খালেক পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির আগেই মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘রূপবান’। আর এই একটি চলচ্চিত্রই বদলে দেয় তার ক্যারিয়ারের গতিপথ।

‘রূপবান’ দেশজুড়ে এমন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে টানা এক বছর প্রেক্ষাগৃহে চলেছিল সিনেমাটি। রাতারাতি তারকা বনে যান সুজাতা। সিনেমায় আসার আগে তার ভাবনা ছিল থিয়েটারেই নিয়মিত থাকবেন, আর মাঝেমধ্যে চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। কিন্তু ‘রূপবান’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর তার চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে থিয়েটারে আর নিয়মিত ফেরা সম্ভব হয়নি।

এরপর একের পর এক লোকজ গল্পের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে থাকেন সুজাতা। বাংলা চলচ্চিত্রে তাই তিনি ‘ফোক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবেও পরিচিতি পান। তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেত্রীর পঞ্চাশটিরও বেশি সিনেমা ছিল লোকজ ঘরানার। আর এই ধরনের চলচ্চিত্রগুলোই তাকে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এনে দেয়।

১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত প্রায় সত্তরটি চলচ্চিত্রে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন সুজাতা। এরপর প্রায় এক যুগ চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলেন তিনি। পরে আবারও নিয়মিত হন রূপালি পর্দায়। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় শুরু করেন।

সুজাতার ব্যক্তিজীবনের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে চলচ্চিত্রের গল্প। ১৯৬৭ সালে ‘ডাকবাবু’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় তার নায়ক আজিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একসঙ্গে চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও যুক্ত হন তারা।

সুজাতা ও আজিম তিনটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ‘সুজাতা প্রোডাকশন্স’, ‘এস এ ফিল্মস’ ও ‘সুফল কথাচিত্র’ নামে তাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ‘চেনা অচেনা’, ‘টাকার খেলা’, ‘প্রতিনিধি’, ‘অর্পণ’, ‘রূপবানের রূপকথা’, ‘বদলা’, ‘রং বেরং’ ও ‘এখানে আকাশ নীল’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

অভিনয় ও প্রযোজনার পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন সুজাতা। ‘অর্পণ’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন তিনি। সিনেমাটি একাধিক শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন সুজাতা। তবে দর্শকের মনে তার সবচেয়ে উজ্জ্বল পরিচয় সেই ‘রূপবান’, যে চরিত্র তাকে একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিল। জন্মদিনে তাই কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীকে ঘিরে ফিরে আসে তার বর্ণিল চলচ্চিত্রজীবনের অসংখ্য স্মৃতি।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন