© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শাহজাদপুরে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের নজিরবিহীন সংঘাতজেলা প্রশাসকের জমির ওপর আদালতের দাবি, পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াই

শেয়ার করুন:
জেলা প্রশাসকের জমির ওপর আদালতের দাবি, পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০৩ পিএম | ১২ আগস্ট, ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সরকারি সম্পত্তি এবং উপজেলা পরিষদের জমি নিয়ে বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে । উভয় পক্ষ এ ঘটনায় অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে। একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই প্রশাসনিক টানাপোড়েন এখন এতটাই ঘনীভূত হয়েছে যে, দেশের বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সার্বিক সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি মহল সরকারের প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে দেয়ার পাঁয়তারারষয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। 

ঘটনার মূল সূত্রপাত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের প্রায় ১৫ বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে। ২০১৩ সালে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সেরেস্তাদার বাদী হয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি ২০২৬ সালে এসে সেই মামলার মূল আবেদন বা আরজি সংশোধন করে উপজেলা পরিষদের প্রায় সাত একর জায়গা নিজেদের বলে দাবি করে আদালত কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ।

এই জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় উপজেলা পরিষদের বিশেষ সভা ও সিরাজগঞ্জ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় , উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক 'ক্লিয়ারেন্স' না পাওয়া পর্যন্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ স্থগিত থাকবে। সমন্বয় সভার সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গত ২১ জুন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয় উপজেলা প্রশাসন।

মূল জটিলতার শুরু ঠিক এরপরই। উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া ওই সরকারি চিঠিটিকে আদালতের আদেশ অমান্য বা 'নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ' হিসেবে গণ্য করে ইউএনওর বিরুদ্ধে একটি ভায়োলেশন মামলা করা হয়। তবে মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞার আবেদন এবং আদেশ—দুই-ই দেওয়া হয়েছিল গত ২৪ মে, একই দিনে কোনো রকম শুনানি ছাড়াই। আদালত থেকে এই নিষেধাজ্ঞার নোটিশ, আরজি ও আদেশের অনুলিপি উপজেলা প্রশাসনের কাছে এসে পৌঁছায় ঘটনার অনেক পরে, গত ৩০ জুন।

গণপূর্ত বিভাগ ও স্থানীয় থানার চিঠি পর্যালোচনা করলেও স্পষ্ট হয় যে, আদেশের নোটিশ অনেক পরে ইস্যু করা হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন উঠেছে—যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জানতই ৩০ জুন, সেই আদেশের আগে দেওয়া ২১ জুনের একটি সাধারণ সরকারি চিঠিকে কীভাবে 'আদালত অবমাননা' বা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ বলা হতে পারে?- এমন প্রশ্ন তুলছে সরকারের প্রশাসন। 

শুধু তা-ই নয়, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৬ জুলাই ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার যে আদেশ দেওয়া হয়, তার কপি ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইউএনওর পক্ষ থেকে এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে 'সিভিল রিভিশন' দায়ের করা হলে আগামীকাল ১৩ আগস্ট তার শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

ইতোমধ্যে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে গত ২৯ জুলাই জেলা ও দায়রা জজের আদেশে মূল মামলা এবং ভায়োলেশন মামলাটি শাহজাদপুর থেকে সরিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে গত ৬ আগস্ট নতুন আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ইউএনওর সকল আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। একই সাথে ১৩ আগস্ট মামলার একতরফা সাক্ষ্য গ্রহণ ও চূড়ান্ত আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।

একটি সরকারি জমির মালিকানা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভুল ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যকার এই নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি অবস্থান পুরো জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

মন্তব্য করুন