© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ প্রকাশ রাজের

শেয়ার করুন:
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ প্রকাশ রাজের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫৫ পিএম | ১২ আগস্ট, ২০২৬
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের অভিনেতা প্রকাশ রাজ। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটাধিকার হারানো বেঙ্গালুরুর প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের মধ্যে তিনিও একজন।

নিজের এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশ করা ওই ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকাশ রাজ বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে একটা কৌতুক শেয়ার করতে চাই। বেঙ্গালুরু কেন্দ্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর যে ৬৫ লাখ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমি তাদের মধ্যে একজন। ভালো কৌতুক, তাই না? আমি এই কেন্দ্রেই জন্মেছি, বড় হয়েছি, এখানেই আমার স্কুল, কলেজ ও থিয়েটার চর্চা। আর আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি, আমি এই কেন্দ্রের একজন লোকসভার প্রার্থীও ছিলাম।

ভোটার তালিকায় নিজের নাম পুনর্বহালের জন্য আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও দিয়েছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘যাক, কৌতুকটা বেশ ভালোই ছিল। খেলা শুরু হয়ে গেছে। দেখা যাক এবার আমার ভোটার আইডি ফেরত পেতে আমাকে আর কী কী নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

আর এর জন্য কী কী কাগজপত্র দেখাতে হয়!’

কেন্দ্রীয় সরকারের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে প্রকাশ রাজ আরো বলেন, ‘ক্ষমতা ব্যবহার করে হয়তো যেসব নাগরিক আপনাকে ভোট দেবে না, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু আমাদের কি আপনারা আটকাতে পারবেন? শুধু এটুকুই জানার ছিল।’

প্রকাশ রাজের এই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল সিটি করপোরেশন। তাদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী যাচাইয়ের পরই ভোটার তালিকায় প্রকাশ রাজের নাম ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় জানতে পারেন, নিবন্ধিত ঠিকানা থেকে প্রকাশ রাজ স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিএলও ওই ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী ও প্রপার্টি ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত চালিয়েছেন। ফ্ল্যাটের মালিকও টেলিফোনে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রকাশ রাজ গত চার বছর ধরে ওই ঠিকানায় থাকেন না এবং বর্তমানে সেখানে অন্য ভাড়াটিয়ারা থাকছেন। তাদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নিয়ম অনুযায়ী স্পট ইনস্পেকশন রিপোর্ট তৈরি করে ভোটার স্ট্যাটাস ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আইনি বিধি মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল সিটি করপোরেশনের কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জগদীশ জি বলেন, ‘আমি নিজে অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি উল্লিখিত ঠিকানায় থাকেন না, বরং শান্তিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অন্য একটি ঠিকানায় বসবাস করছেন। তাকে জানানো হয়েছে যে তিনি বর্তমান ঠিকানার বিএলও-এর মাধ্যমে ‘ফরম-৬’ পূরণ করে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। ফলে প্রকাশ রাজের আনা অভিযোগগুলো যাচাই করার পর মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।’

এদিকে, প্রকাশ রাজকে ঘিরে ভোটার কার্ডসংক্রান্ত বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। গত ১০ জুলাই একটি ফৌজদারি মামলায় তাঁকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দেয় একটি নগর আদালত। 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় নিবন্ধিত চারটি ভোটার কার্ড অবৈধভাবে নিজের কাছে রেখেছিলেন অভিনেতা। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।

এসএন 

মন্তব্য করুন