© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

১৬ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ নিরসন সম্ভব নয়: মাহদী আমিন

শেয়ার করুন:
১৬ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ নিরসন সম্ভব নয়: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১১ পিএম | ১২ আগস্ট, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কারণে জ্বালানি খাত বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাস্তবিক অর্থেই দীর্ঘদিনের এই স্থবির সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয়।

আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারি ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কাঠামোর কারণে জ্বালানি খাত বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাস্তবিক অর্থেই দীর্ঘদিনের এই স্থবির সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয়। তবে অত্যন্ত আশার কথা হলো, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনরা যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে এই খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত হবে।’

‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমরা সরাসরি জেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাব এবং সেখানকার স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও চাকরিপ্রার্থী, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং যারা কাজ খুঁজছেন উভয় পক্ষকে একটি মেলবন্ধনে আবদ্ধ করব। অফলাইন ও অনলাইন উভয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেব।

এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা সৃষ্টি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করা হবে। এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারিত হবে।’

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুফল পাওয়ার বিষয়ে মাহ্দী আমিন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রবাহ থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সেটিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিতদের জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’

মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিমত ও ভোটাধিকারের ভিত্তি করে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

নির্বাচনী এই নিরঙ্কুশ বিজয়ে সর্বস্তরের জনগণের অসামান্য অবদান রয়েছে। ফলে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘শুধু সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাগ্যোন্নয়ন ঘটে। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।’

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারেনি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেন নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারে।’

তিনি জানান, শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতের আওতায় ১ লাখ নতুন পদ সৃষ্টি ও কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ হাজার পদেই অগ্রাধিকার পাবেন নারীরা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, পাহাড়ি কিংবা সমতলের বাসিন্দা, ধর্ম-বর্ণ-রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা শারীরিক ও সামাজিকভাবে সক্ষম-অক্ষম নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষই বাংলাদেশের নাগরিক। ভিন্ন মতামত ও বৈচিত্র্যকে পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বৈচিত্র্যের মাঝেই বাংলাদেশের আসল রূপ বিদ্যমান। তাই রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ও সরকারের নীতিমালায় দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন সমান অধিকার, স্বাধীনতা এবং উন্নয়নের সমপরিমাণ অংশীদারি লাভ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার।’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সংসদ সদস্য মাধবী মারমা প্রমুখ।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন