© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইউএনওর বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

শেয়ার করুন:
ইউএনওর বিরুদ্ধে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৪২ এএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক সহকারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের কুলুবাড়ি মোড় এলাকায় বালু ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী সারোয়ার জাহান বাচ্চু ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও, এসিল্যান্ড, আনসার ও র‍্যাব সদস্যরা বালুর ঘাটের ব্যবস্থাপকের কক্ষে প্রবেশ করে কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান অভিযানে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে ইউএনও তাকে দুই গালে দুটি থাপ্পড় দেন। পরে এক র‍্যাব সদস্য তাকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইউএনও লাঠি নিয়ে পরপর চারবার আঘাত করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সারোয়ারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ জানান, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় মাস আগে বালুমহালটি ইজারা নেয়া হয়েছে। ইজারার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে। এ ঘাট ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। তাই অভিযানে আসা ব্যক্তিদের চিনতে না পারায় পরিচয় জানতে চাওয়ায় তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করতে বের হন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা এলাকার সিমেক, বালিপাড়া বালুর মোড় এলাকার মরাখলা, কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীর বাজার ও কানিহারী ইউনিয়নের ঝিলকি নামকস্থানে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর কানিহারী ইউনিয়নের কুলু বাড়ি মোড় এলাকার একটি বালু ঘাটে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ব্যাপারে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী জানান, সেখানে থাকা কর্মচারীরা দলীয় প্রভাবে অনেক বেয়াদবী করেছে। সদর আসনের এমপি ওয়াহাব আকন্দ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকারের নাম ব্যবহার করে ওই বালু ঘাট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন ও বিক্রি করে যাচ্ছিল। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভির ফুটেজ থেকে অনেক কিছু কাটছাট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন