চিকিৎসা করাতে ভারতে গিয়ে এক বন্ধুর মৃত্যু, শোক সইতে না পেরে প্রাণ গেল আরেক বন্ধুরও
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪৮ পিএম | ১৩ আগস্ট, ২০২৬
বন্ধুর চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতায় গিয়ে আকস্মিকভাবে মারা গেছেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিল্লাল মাঝি (৫০)। প্রিয়বন্ধুর এই মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে পরদিন মারা যান তাঁর বন্ধু হাবিবুর রহমানও (৫৭)।
বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড় ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে দুজনের মরদেহ রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর মরদেহ দুটি দেশে ফিরিয়ে এনে একসঙ্গে পাশাপাশি দাফনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তাঁদের পরিবার।
নিহত বিল্লাল মাঝির বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইশ গ্রামের করম আলী মাঝির কাছে এবং তাঁর বন্ধু হাবিবুর রহমানের বাড়ি একই জেলার কাপাসিয়া থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আসাম উদ্দিনের গ্রামে।
বিল্লাল মাঝির মেয়ে আফরোজা আক্তার জানান, তাঁর বাবা বন্ধু হাবিবুর রহমানের ক্যানসার চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য প্রায় ২৫ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ করে গত ৯ আগস্ট তাঁরা দেশে ফেরার পথ ধরেন। কলকাতা থেকে ট্যাক্সিতে করে আসার সময় বিল্লাল মাঝি হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন।
হাবিবুর রহমান তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ ভাঙড় ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিল্লাল মাঝিকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে বন্ধুর লাশের পাশে থাকা অবস্থায় এই গভীর শোক সহ্য করতে না পেরে পরদিন ১০ আগস্ট হাবিবুর রহমানও মারা যান।
আফরোজা আক্তার আরও বলেন, 'আমার বাবা ও বাবার মরদেহ এখন ওই হাসপাতালেই আছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি করছি। দুই বন্ধুর একসঙ্গে মৃত্যু হয়েছে, আমরা তাঁদের দেশের মাটিতে পাশাপাশি দাফন করতে চাই।'
নিহতদের স্বজন শহীদুল্লাহ জানান, দুই বন্ধুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, 'মরদেহ দুটি দেশে আনার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার যেন দ্রুত গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এসএ/টিএ